জমি নিয়ে বিরোধে সাংবাদিকের মা-বাবাকে মারধর, মামলা

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের মা-বাবাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকের বাবা আহত আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম পৌর শহরের পলাশবাড়ী কবিরাজ পাড়া এলাকায় নিজ জমি দেখতে গেলে রমজান আলী, মামুনুর রশিদ মামুন, মনোয়ারা বেগম তাদের ওপর হামলা করে মারধর করে। ঘটনার দিনই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি মামলা করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমি সাংবাদিক তামজিদ হাসানের বাবা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে পাওয়ার পর গত ৩৪ বছর ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে সাংবাদিক তামজিদ হাসানের বাবা-মা তাদের কেনা জমিতে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া আসামিরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে রমজান আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তার ডান চোখের নিচে লেগে জখম হয়। এরপর কয়েকজন আসামি লোহার রড দিয়ে আমিনুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় শামসাদ বেগম এগিয়ে এসে তাকে সরিয়ে দিলে আমিনুল ইসলাম রক্ষা পান। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, গুরুতর আহত আমিনুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তার স্ত্রী শামসাদ বেগম স্থানীয় পল্লীচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক তামজিদ হাসান বলেন, ‘বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আমার বাবা-মা আমাদের কেনা জমিতে চারা রোপণ করতে যায়। সেখানে বিবাদীরা আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা আমার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিবাদী পক্ষও আরেকটি মামলা করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’