আবুধাবি টেস্ট: ৩ স্পিনার ও ২ পেসার নিয়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, ২ পেসার এবং ৩ জন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামছেন তারা। এমনকি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় দিন থেকেই উইকেটে স্পিনাররা সুবিধা পাবেন বলে মনে করেন তিনি। এজন্যই স্পিন নির্ভর একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এজন্য অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে অফ স্পিনার নাঈম হাসনকেও একাদশে রেখেছে সফরকারীরা। যদিও নাঈম শুরুতে মূল দলে ছিলেন না। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে আমিরাতে দলের সঙ্গে যান তিনি। পরে উইকেটের ধরণ দেখে এই অফ স্পিনারকে রেখে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

এ ম্যাচটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ঐতিহাসিক হিসেবে জায়গা পাচ্ছে। কারণ এই প্রথম কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে নামছেন তারা। ১৬১টি টেস্ট খেলে ফেলার পর এবারই প্রথম কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার স্বাদ পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের দুটি টেস্টই হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় ২২৪ রানে হারেন স্বাগতিকরা। চার বছর পর মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয়ে সেই হারের জবাব দেন তারা। দুই দলের টেস্ট লড়াই এখন ১-১ সমতায়। এ ম্যাচ জিতে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণের সুযোগ থাকছে শান্তদের সামনে। 

তবে বাংলাদেশের সামনে বাধা হতে পারে শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট। এ মাঠে সর্বশেষ টেস্ট হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ বছর আগে। হাই স্কোরিং সে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৬ উইকেটে হারায় আফগানিস্তান। এর আগে শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া ১৫ টেস্টের মধ্যে ১১টি জয়-পরাজয়ের সাক্ষী হয়েছে।

এই মাঠে ম্যাচের শুরুতে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট তুলনামূলক ভালো থাকলেও সময় গড়ালে রান করা কঠিন হতে থাকে। প্রথম ইনিংসে গড় রান ৩৬০, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪১ রান। তৃতীয় ইনিংসে সেটি কমে ২৭৪ এবং চতুর্থ ইনিংসে ১৩৬ রান। অর্থাৎ টস জেতা বাংলাদেশের সামনে এখন ব্যাট করে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। আগের ১৫ টেস্টে প্রথমে ব্যাট করা দল জিতেছে ৯টি। 

বোলিংয়ের পরিসংখ্যানেও স্পিনের সামান্য বাড়তি প্রভাব দেখা যায়। সেখানে স্পিনাররা নিয়েছেন মোট উইকেটের ৫৩.৪২ শতাংশ, পেসারদের দখলে ৪৬.৫৮ শতাংশ। নতুন বলে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পান। ম্যাচ যত এগোয়, স্পিনারদের প্রভাব বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ একাদশ

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও নাঈম হাসান।