মৃত্যুদন্ড লাইভ করবে যুক্তরাষ্ট্র, সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদ- ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর করা হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য তা সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করা হবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথা জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে ১৩ জন নিরস্ত্র মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হাসানকে এই সাজা দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, প্রায় এক শতাব্দী পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম প্রকাশ্য মৃত্যুদ- হতে চলেছে। মঙ্গলবার হেগসেথ জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডেই এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর হবে। গত ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদ-।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে। ১১ বছরের এক অস্ট্রিয়ান বালিকাকে ধর্ষণের দায়ে জন আর্থার বেনেট নামে এক মার্কিন সেনাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার এর অনুমোদন দিয়েছিলেন।

রিয়েল আমেরিকা’ ভয়েস টিভি চ্যানেলে হেগসেথ বলেন, ‘হাসানকে এক দল সেনার ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি হতে হবে। আর এমনই হওয়া উচিত। এ ধরনের কাজের যে মারাত্মক পরিণতি হয়, তা মানুষের বোঝা দরকার।’ হাসানের কোনো শেষ ইচ্ছা বা ট্রাম্পের কাছে আর্জির বিষয়ে তিনি সাফ বলেন, ‘পরোয়া করি না। ৩ ডিসেম্বর ওর সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’ আগের দিন সোমবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সুপারিশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমোদন দিয়েছেন।

মার্কিন সেনার মনোরোগ চিকিৎসক ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা হাসান ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডের এক জনবহুল মেডিকেল ভবনে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাকে গুলি করে মারেন। ২০১৩ সালের কোর্ট মার্শালে (সামরিক আদালত) তিনি নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানে মুসলিম এবং তালেবানদের রক্ষা করার জন্যই সে এই কাজ করেছিল।

তবে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মার্ফি। তিনি একে  ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি ইসলামিক স্টেট গ্রুপের (আইএসআই) মৃত্যুদ- কার্যকরের কথা মনে করিয়ে দেয়। ইয়েল ল’ স্কুলের ভিজিটিং লেকচারার ইউজিন আর ফিদেল একে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত’ বলে বর্ণনা করে বলেন, ‘মৃত্যুদন্ড লাইভস্ট্রিম করার বিষয়টি পুরোপুরি মধ্যযুগীয়।’

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বন্দিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিল্স জানিয়েছেন, আধুনিক যুগে লাইভস্ট্রিম করার সিদ্ধান্ত ‘নজিরবিহীন’ এবং এটি ‘অনিশ্চিত আইনি ক্ষেত্রে’ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১৭টি দেশে ২,৭০০টিরও বেশি মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদ- কার্যকর করা দেশের তালিকায় ছিল চিন, ইরান, সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং আমেরিকা।