প্রায় দুই দশক ধরে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তিনি অনন্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অপূর্ব তার বর্ণিল ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকনন্দিত নাটক উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘বড় ছেলে’ অন্যতম এক মাইলফলক। পরবর্তী সময়ে নাটক, সিনেমা এবং গানের ভুবনে নিজের বিচরণ, নাটকে সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ
দুই দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে রোমান্টিক ঘরানায় নিজের জায়গাটা যেভাবে ধরে রেখেছেন, এই ধারাবাহিকতা ও ভালোবাসা কীভাবে দেখেন?
আমি সবসময় একটা কথা বিশ্বাস করি ও বলি, আগেও যেমন সাধারণ মানুষের মতো মাটিতে ছিলাম, এখনো সেভাবেই মাটিতেই আছি। দর্শকদের ভালোবাসা আর দোয়াই আমার মূল শক্তি। সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে মিলেমিশে, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বাকি জীবনটা পার করে দিতে চাই। আর ব্যক্তিজীবনে নিজের সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
মাঝে কিছুটা বিরতি দিয়ে হলেও সিনেমা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন শুনলাম। দর্শকদের কি নতুন কোনো সুখবর দিতে যাচ্ছেন?
একসময় সিনেমাতে কাজ করলেও পরে মনে হয়েছিল নাটকটাই আমার মূল জায়গা। তবে এখন সিনেমা নিয়ে আবার নতুন করে কিছু পরিকল্পনা ও কথাবার্তা এগোচ্ছে। এবার যদি সত্যিই কিছু হয়, তবে খুব ভালো এবং মানসম্পন্ন কিছুই হবে। সবকিছু চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর বেশি কিছু আপাতত বলতে চাইছি না। খুব দ্রুতই হয়তো সবাইকে একটা ইতিবাচক আপডেট দিতে পারব।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আপনার জীবনের প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যা করে বাজিমাত করলেন! এ অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
অভিজ্ঞতাটা এক কথায় দুর্দান্ত। কোনো স্পন্সর ছাড়াই নিউইয়র্কে আয়োজিত প্রথম গীতিসন্ধ্যাটি দর্শকরা যেভাবে আপন করে নিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গায়কিতে মানুষের মন ছুঁতে পেরেছি। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কী হতে পারে! এই অভূতপূর্ব সাড়া দানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শিগগিরই আরেকটি একক শো করতে যাচ্ছি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ও কানাডা থেকেও শোয়ের প্রস্তাব এসেছে, সেসব নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে মিটিং করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
আপনার পরবর্তী প্রজন্মের অনেক শিল্পীই এখন কাজ করছেন। উত্তরসূরিদের পারফরম্যান্স এবং বর্তমান নাট্যাঙ্গনের অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
আমাদের পরবর্তী প্রজন্মে যারা অভিনয় করতে এসেছে, তাদের অনেকেই ভীষণ ভালো কাজ করছে। তাদের কাজ দেখলেই বোঝা যায় তারা প্রচুর পরিশ্রম করছে এবং শতভাগ মনোযোগ দিয়ে কাজটা করার চেষ্টা করছে। তবে তাদের একটি জায়গায় কিছুটা দুর্ভাবনা রয়ে গেছে; আমরা যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন নাটকে বহু কিংবদন্তি তারকাদের পাশে পেয়েছি, শিখতে পেরেছি। এখন তাদের অনেকেই নেই বা কাজ করছেন না। সেই দিক থেকে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়।
বর্তমানে নাটকের গল্প ও নির্মাণের যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখছেন, সেগুলো কীভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব?
এখন মূল সংকটটা মৌলিক গল্পের। আমাদের এখানে গল্পের পরিসরটা কিছুটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, ভালো ও একদম নতুন কোনো মৌলিক কনসেপ্ট খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। এরপরও এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যে নতুন নতুন গল্পের সন্ধানে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এটা খুবই প্রশংসনীয় এবং ইতিবাচক দিক।