বাবার মুঠোফোনে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪)। কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নেমে সে কোথায় গিয়েছিল, কার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, কিংবা কেন তাকে নির্জন ধানক্ষেতে যেতে হলো এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আগেই মিলেছে তার নিথর দেহ। গলায় প্যাঁচানো ছিল গামছা। পাশে পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কিছু দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ।
তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম থেকে সন্দেহভাজন সুমন নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা করে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
তাজমিনের মৃত্যু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে কুমিল্লায়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় পাওয়া যায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ। তাকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র হত্যা করেছে বলে জানিয়েছিল র্যাব।
তিনটি ঘটনা এক নয়। ভুক্তভোগীদের বয়স, পরিচয় ও হত্যাকা-ের পরিস্থিতিও আলাদা। তবু এসব মৃত্যু কুমিল্লায় জননিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে তাজমিনের ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন কক্সবাজার থেকে ফেরার পর তার চলাচলের শেষ কয়েক ঘণ্টায় কী ঘটেছিল?
যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সঙ্গে নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত তাদের পরিবার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামে সে। ঘটনার আগের রাতে বাবার মুঠোফোনে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল।
এরপর কী ঘটেছিল, তা এখনো অজানা। পদুয়ার বাজার থেকে সে কীভাবে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামে পৌঁছাল, পথে কারও সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল কি না, কিংবা কেউ তাকে অনুসরণ করছিল কি না এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার সকালে জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় গামছা প্যাঁচানো থাকায় প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলটি গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া একটি নির্জন পাকা সড়কের পাশে। সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। আশপাশের চার-পাঁচটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গাড়িটির কাছাকাছি একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে এলোমেলো ধানগাছ দেখে সামনে এগিয়ে মরদেহটি দেখতে পান তিনি। মরদেহের মাথা কাদায় ছিল, গলায় প্যাঁচানো ছিল গামছা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. মুহিনের ধারণা, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, মেয়েটি জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে এটি স্থানীয় বাসিন্দার ধারণা; ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করতে হবে তদন্তের মাধ্যমে।
তাজমিনের চলাচলের শেষ পথ শনাক্ত করা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে নগরের নূরজাহান হোটেল এলাকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তার চলাচলের দৃশ্য পাওয়া গেছে। ফুটেজে রাত ১২টার দিকে তাকে একটি দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর অন্য পাশে চলে যেতে দেখা যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু এরপর সে কোন পথে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত করার মতো সিসিটিভি ফুটেজ এখনো পাওয়া যায়নি।
নূরজাহান হোটেল এলাকা থেকে বের হওয়ার পর তাজমিন কোনো অটোরিকশায় উঠেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কারণ তার মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া গেছে। গাড়িটি জব্দ করে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। তবে গাড়িটি তাজমিনকে বহন করেছিল কি না, কিংবা হত্যাকা-ে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানায় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সিএনজিচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে জানা যেতে পারে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন অটোরিকশাচালকের বরাতে সুমনের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও বখাটে স্বভাবের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকা-ে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাজমিনের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করছে লালমাই থানা পুলিশ। পুলিশের একাধিক ইউনিট এ ঘটনায় কাজ করছে।
অপ্রতিমের মৃত্যুতে কেঁদেছিল দেশ, ফিরল না তাজমিনও : তাজমিনের মৃত্যুর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সানন্দা পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিম। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ জানায়, আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
এর কয়েক মাস আগে গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পরদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
সে সময় র্যাব (বর্তমানে এসআরবি) হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করে। সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে নিহত হন বুলেট বৈরাগী। বাস থেকে নামার পর তাকে অটোরিকশায় তুলে মারধর ও ছিনতাই করা হয়। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত অটোরিকশা, চাপাতি, সুইস গিয়ার ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথাও হয়।
অপ্রতিমের ঘটনায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যার কথা বলেছে পুলিশ। বুলেট বৈরাগীর ঘটনায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সম্পৃক্ততার কথা জানায় র্যাব। আর তাজমিনের হত্যাকা-ের কারণ এখনো অজানা। ফলে তিনটি ঘটনাকে একই ধরনের অপরাধ বা একই চক্রের কাজ হিসেবে দেখার মতো তথ্য নেই। কিন্তু একের পর এক এমন মৃত্যু জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি : কুমিল্লা নাগরিক আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি চিকিৎসক আতিকুল ইসলাম বলেন, অপ্রতিমের পর তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লার মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, প্রতিটি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু ঘটনার পর গ্রেপ্তার নয়, অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণও প্রয়োজন। কোনো পরিবার যেন আর সন্তানের এমন পরিণতির মুখোমুখি না হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম তমা বলেন, শিশু-কিশোরদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাকা- প্রতিরোধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধের প্রকৃতি, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, আলামত সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধের বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন গড়ে না ওঠে, সে জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাজমিনের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। কুমিল্লার মানুষের প্রত্যাশা, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আসবেন এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাজমিনের মরদেহ যশোরে দাফন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা-বাবা : কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ যশোরে দাফন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় সদরের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে গভীর রাতে তাজমিনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা-মাসহ স্থানীয়রা।
জান্নাতুল তাজমিনের বাবা আবদুল আলীমের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লা শহরে বসবাস করত। সেখানে স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়াতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায় অবস্থিত তাজমিনের গ্রামে বাড়িতে দেখা যায় শোকে স্তব্ধ তার বাবা-মাসহ নিকট স্বজনদের। স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বজনদের ছবি তুলতে গেলে তাজমিনের মা কেয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শুরু করেন ‘কী হবে এসব ছবি তুলে! আমার কলিজার পাখিটা যখন চলে গেছে; এখন আর কিছু বলব না।’ আহাজারি করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার পাখির সঙ্গে সবশেষ কথা হয় গত বৃহস্পতিবার বিকালে। তখন সে বলে, আমি বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছি। আমার বান্ধবীর বাড়িতে আসি নিয়ে যাও। তখন আমি তাকে প্রশ্ন করি, তোর সেই বান্ধবীর নাম কী? বাবা-মায়ের নাম কী? তখনো সে কিছু বলেনি।’ তাজমিনের মা ওর বান্ধবীর দিকে অভিযোগের তীর ছোড়েন। দাবি করেন, তাকে ধরলেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও।
তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম একমাত্র সন্তানকে এভাবে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, ‘৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে সে মেসেজ (খুদে বার্তা) এবং ‘লাইভ লোকেশন’ (ওই সময় মেয়েটির অবস্থান যেখানে ছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই। তিনি বলেন, এখন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে চাই না। আমার মেয়ের সঙ্গে কী হয়েছে, কারা তাকে হত্যা করেছে, পুরো ঘটনা জানতে চাই। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানাই।’
স্থানীয়রা জানান, তাজমিনের আর কোনো ভাইবোন নেই। সে খুব মেধাবী ছিল। বিভিন্ন ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামে বেড়াতে আসত। জেদি স্বভাবের ছিল। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।