জোড়াতালির ট্রলি সেবা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ এএম

দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট কাটাতে নেওয়া হয়েছে সাময়িক বা ‘জোড়াতালি’র পদক্ষেপ। সংকট সামাল দিতে সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পুরনো ২০০  ট্রলি শাহজালালে যুক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই আরও ১৫০টি ট্রলি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। তবে এসব উদ্যোগের পরও বিমানবন্দরে ট্রলি পেতে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি ও ক্ষোভ কমেনি। শুধু শাহজালালই নয়, চট্টগ্রাম, সিলেট বা কক্সবাজারসহ দেশের প্রায় সব বিমানবন্দরেই এখন কমবেশি ট্রলি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে যাত্রীদের লাগেজও নজরে আনা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি আগামী মাসে ৩০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন ৫০ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিক যাতায়াত করেন। যাত্রীদের তুলনায় ব্যবহারযোগ্য ট্রলির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় লাগেজ আনা-নেওয়া নিয়ে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ট্রলি কেনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিদেশ থেকে ট্রলি আনতে গেলে কিছুটা সময় লাগবে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বেবিচকে একটি বিশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার নতুন ট্রলি ক্রয় করবে। পাশাপাশি শাহজালালসহ সব বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হবে। এমনকি ট্রলি সেকশনে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে বিশেষ নজরদারি করবে। ট্রলিগুলো কোথায় যায় বা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেসব দিক পর্যবেক্ষণ করবে।

লাগেজ নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা : বেবিচক সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ট্রলির পাশাপাশি লাগেজ হয়রানি নিয়ে আছে আলোচনা-সমালোচনা। আর এ জন্য বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একসঙ্গে অনেক ফ্লাইটের লাগেজ এলে বেল্ট এলাকায় চাপ বেড়ে যায়। যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কখনো একই সময়ে একাধিক ফ্লাইটের লাগেজ নিয়ে জট তৈরি হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাগেজ কোথায় আছে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দ্রুত লাগেজ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতিও সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। তা ছাড়া লাগেজে থাকা মালামাল খোয়া যাওয়া বা চুরির অভিযোগে যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়। অভিযোগের পর ঘটনার সময় ও স্থান শনাক্ত করতেও অনেক ক্ষেত্রে সময় লাগে।

নতুন ব্যবস্থায় এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার পুরো গতিপথ অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে। কোনো লাগেজ বিমান থেকে নামানোর পর কোথায় গেছে, কোন এলাকায় কতক্ষণ ছিল এবং কারা সেটি সরিয়েছে প্রয়োজনে এসব তথ্য ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। ফলে দায়িত্ব নির্ধারণ ও অভিযোগ তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে। ক্যামেরায় অডিও বা ভয়েস ট্র্যাকিংয়ের সুবিধাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু দৃশ্য ধারণ নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দ বা কথোপকথন শনাক্তের প্রযুক্তিও ব্যবস্থাটির সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। এতে ব্যাগেজ এলাকায় কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটি শনাক্তের সক্ষমতা বাড়বে।

ক্যামেরার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হচ্ছে সংযুক্ত : প্রস্তাবিত এআই ক্যামেরা নেটওয়ার্ককে সচিবালয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। প্রয়োজনীয় এক্সেস থাকলে মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সচিবালয়ের নিজ নিজ কক্ষ থেকেই লাইভ ফুটেজ দেখতে পারবেন। মোবাইল, ল্যাপটপ বা নির্দিষ্ট স্ক্রিনের মাধ্যমেও অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা যেকোনো স্থান থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

সার্বিক বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এসএম লাভলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ট্রলি ও লাগেজ নিয়ে যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা চলছে। সবকিছুই কঠোর নজরদারির আওতায় নিয়ে আসছি। লাগেজের বিষয়ে এআই প্রযুক্তি স্থাপনে কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছে। সে মোতাবেক কাজ করছি। এটি স্থাপন করা গেলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে। প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাবে। বিমানের প্রতি যাত্রীদের আস্থা ফিরবে।

কক্সবাজার থেকে ধার করে আনা হয়েছে ট্রলি : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে ২০০ ট্রলি যুক্ত হয়েছে। যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরও ১৫০ ট্রলি। নতুন এই ট্রলি সংযোজনের ফলে সংকটের অনেকাংশে সমাধান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন করে ট্রলি সংযোজনের ফলে শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলির সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ হাজার ৩৯০টিতে। আরও ১৫০টি যোগ হলে সেটি গিয়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ৫৪০টিতে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে গত ৩ অক্টোবর ২০০টি ট্রলি আনা হয়। এছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও দেওয়া হবে ২০০টি ট্রলি। এই ট্রলির মধ্যে শাহজালালে থাকবে ১৫০টি, আর বাকি ৫০টি যাবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে।

তিনি আরো বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ট্রলি যোগ হলে শাহজালাল বিমানবন্দরে সাড়ে ৪ হাজারের ওপরে ট্রলি থাকবে। তাহলে ট্রলির আর কোনো সংকট হবে না বলে আশা করছি। ট্রলির সংকট হয়ে যায় যখন অনেকগুলো ফ্লাইট একসঙ্গে নামে। কিন্তু এখন ট্রলির যে সংখ্যা তাতে আর সংকট হবে না।

এক বছর ধরেই চলছে সংকট : গত এক বছর ধরে ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের হাহাকার চলছে। যাত্রীরা ইমিগ্রেশন শেষ করেই যেন ট্রলি নিতে এক প্রকার দৌড় প্রতিযোগিতায় নামেন। কে আগে নেবেন ট্রলি। বিগত হজ মৌসুমের আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি রাখার জন্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-কে লিখিতভাবে জানায়। হজ শেষে ফিরতি মৌসুমে যখন হাজিরা ফিরবেন, তখন ট্রলির তীব্র সংকট দেখা দেবে বলে সতর্ক করে গোয়েন্দা সংস্থা। বিমানবন্দরে ভেতরে ট্রলি নিয়ে নানা ঘটনাও ঘটবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এমন অবস্থায় মন্ত্রণালয় থেকেও বেবিচককে এ বিষয়টি সমাধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই সময়ে বেবিচকের কেনাকাটা দপ্তর (সেমসু) থেকে ৫০০টি ট্রলি কেনার প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় সদর দপ্তরে। কিন্তু সেই প্রস্তাবনা অনুমোদন হয়নি। ফলে বিগত ফিরতি হজ মৌসুমে ট্রলি নিয়ে লঙ্কাকান্ড ঘটে। যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এমনকি বিমানবন্দরের ভেতরে মারামারি পর্যন্ত হয়। এতে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে গ্লাসও ভেঙে ফেলেন উত্তেজিত যাত্রীরা। সেই সময় চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ২৫০টি ট্রলি এনে পরিস্থিতি কোনোমতে সামাল দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি জামায়াতের এমপিরা ওমরা শেষে দেশে ফিরলে ঘটে যায় আরও বড় ঘটনা। এবারও আলোচনায় আসে বিমানবন্দরে ট্রলির সংকটের বিষয়।

যাত্রীদের নানা ক্ষোভ : ট্রলির জন্য যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ক্ষোভ প্রকাশ শুরু করেন। বিমানবন্দর থেকে নেমে যখন মালামাল নিয়ে বের হওয়ার জন্য ঠিকমতো ট্রলি পাচ্ছেন না, তখনই তারা মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে নানা নেতিবাচক কথা বলেন। আর সেটি ছড়িয়ে পড়ে। এক নারী যাত্রীকে বলতে দেখা যায়, যদি ট্রলিই দিতে না পারেন, তবে বিমানবন্দর কেন বানাইছেন, বন্ধ করে দেন। যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেবিচকের কি ট্রলি কেনার টাকা নেই। নাকি সমস্যা জিইয়ে রাখার জন্য কৌশলে এমন আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ট্রলি আসায় ট্রলি সমস্যার আপাতত সমাধান হলো বলেই অনেকে মনে করছেন।

সব বিমানবন্দরেই ট্রলি সংকট : দেশের সব বিমানবন্দরেই ট্রলি সংকট শাহজালালের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলেও দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের চিত্রও ভিন্ন নয়। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরেও নিয়মিত ট্রলি সংকট দেখা দিচ্ছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ২০০টি ট্রলি ঢাকায় নিয়ে আসায় সেখানেও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে প্রয়োজনীয় ট্রলি সংগ্রহের সময়োপযোগী কোনো মহাপরিকল্পনা না থাকায় আজ সারা দেশেই এই সংকট ছড়িয়ে পড়েছে। যাত্রীরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহরে থাকা ট্রলিগুলোর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঠিক সময়ে মেরামত না করায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গত কয়েক বছরে শাহজালালসহ অন্যান্য বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন বহুগুণ বাড়লেও সেই অনুপাতে ট্রলির সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। আগমনী টার্মিনাল থেকে বহির্গমন বা পার্কিং এলাকা পর্যন্ত ট্রলিগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এগুলো দ্রুত সংগ্রহ করে পুনরায় ব্যবহারের স্থানে নিয়ে আসার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। নতুন ট্রলি ক্রয়ের টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংকট নিয়মিত ঘনীভূত হচ্ছে।

রহস্যজনক কারণে কেনা হয় না ট্রলি : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ার পেছনে টাকা খরচের বিষয়টি ছিল একটি কারণ। কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, দ্রুতই থার্ড টার্মিনাল চালু হবে। থার্ড টার্মিনাল অপারেশনালভাবে চালু হলে জাপানি প্রতিষ্ঠান ট্রলি নিয়ে আসবে এবং সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান ট্রলিও ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু সময় গড়ালেও থার্ড টার্মিনাল চালু হয়নি। অন্যদিকে ট্রলি সংকটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে থাকে।

নাম প্রকাশ না করে বেবিচকের দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ট্রলি কেনার প্রস্তাব এলেও অনুদান হিসেবে ট্রলি পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে বেবিচক। পরে একটি কোম্পানির সঙ্গে কথাও হয়। তারা ট্রলি দিতে রাজি হলেও আজ পর্যন্ত সেই ট্রলি শাহজালাল বিমানবন্দরে যোগ হয়নি। ট্রলি সংকটের কারণে যাত্রীদের ক্ষোভ ও হয়রানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত এক বছর ধরে তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে আসছিলেন। তবে তাদের পর্যবেক্ষণের কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি। তারা বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট কেন থাকবে এ প্রশ্ন সবার। ট্রলি কিনলে টাকা অপচয় হবে কেন? দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরেও ট্রলি সংকট রয়েছে। থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়ার পর পর্যাপ্ত ট্রলি হলে বর্তমান ট্রলিগুলো অন্যান্য বিমানবন্দরে দিয়ে সেখানকার সমস্যার সমাধান করা যেত। যেখানে শতকোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে ৫০০টি ট্রলি কিনতে আর কত টাকাইবা লাগত। এই ট্রলি থাকলে সাধারণ যাত্রীদের ট্রলির জন্য হাহাকার করতে হতো না। ট্রলি কেনার জন্য মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা মানেননি।

করতেই হবে স্থায়ী সমাধান : যাত্রী অধিকার রক্ষা সংগঠন এবং অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বিমানবন্দর থেকে ট্রলি অন্য বিমানবন্দরে স্থানান্তর করে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। বহরে বিপুল পরিমাণ নতুন ও আধুনিক ট্রলি যুক্ত করা এবং একটি দক্ষ ‘ট্রলি ম্যানেজমেন্ট টিম’ গঠন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার আগেই এর ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে নতুন টার্মিনালেও যাত্রীদের একই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। সাময়িক জোড়াতালির ওপর নির্ভর না করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং যাত্রীদের সুনাগরিক সুলভ সেবা নিশ্চিত করবে এমনটাই এখন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত