ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১৫, শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের কৌঁসুলি কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। খবর আলজাজিরার।

শনিবার এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে পৌঁছানোর খবর জানায় দেশটির কৌঁসুলি কার্যালয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি লেখেন, ‘ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য রাশিয়া আজ ধন্যবাদ জানিয়েছে জাপোরিঝঝিয়ার আবাসিক ভবনগুলোতে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে।’

তিনি আরও জানান, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দিনের বেলায় বাড়ছে রুশ হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক অড্রে ম্যাকঅ্যালপাইন জানান, দেশটিতে দিনের বেলায় হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ঝুঁকিও বেড়ে চলেছে।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি গ্লাইড বোমা বাসস্টপে আঘাত হানে। ওই ঘটনায় ৩০ জন নিহত হন। এ ছাড়া সম্প্রতি কিয়েভে দিনের বেলায় জেটচালিত ড্রোন দিয়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনাও বেড়েছে।

ম্যাকঅ্যালপাইন জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি জেটের শব্দ শুনে দৌড়ে একটি ভবন থেকে সরে যান। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

তাঁর মতে, এসব ঘটনা ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট করে।

যুদ্ধ বন্ধে মায়ামিতে বৈঠক

রাশিয়ার সর্বশেষ হামলার এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের কর্মকর্তারা। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

তিনি বলেন, শীত আসার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা কমানো, সংঘাতের অবসানের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

উইটকফ জানান, বৈঠকে ইউরোপের তিন দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সমন্বয়ে গঠিত ‘ইথ্রি’, ইউরোপীয় কমিশন, ইউক্রেন এবং ন্যাটোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তা, শস্য রপ্তানি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইউক্রেন ও ইউরোপের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কথা হয়।

এ ছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) দেশটির যোগদানের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উইটকফ।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একটি বিপজ্জনক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‘অচলাবস্থার অবসান ঘটার আরেকটি উপায় হলো সংঘাত আরও বাড়িয়ে তোলা।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ ইউক্রেনের প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে আলোচনা হলেও সংঘাতের অবসান নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি।