যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
তবে রুশ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৪টা থেকে রুশ সেনারা গুলি চালানো বন্ধ রাখবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, এটি মঙ্গলবার সকাল ৭টা। এর মাধ্যমে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তৈরি হবে।
দক্ষিণ ইউক্রেনের এই শহরটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুশ বাহিনীর দখলে রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য ওলেশকিতে সাময়িকভাবে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ জন্য একটি নির্ধারিত নিরাপদ পথ তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে বাসিন্দারা শহর ছেড়ে যেতে পারবেন।
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ডেভিড আরাখামিয়া টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে। মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর সম্পৃক্ততায় দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় শহরের বাসিন্দাদের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মানবিক করিডর তৈরি করা হবে এবং শহরে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
মস্কোও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। চুক্তি সম্পাদনে মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, ওলেশকির মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে কাজ চলছে। পোপের সঙ্গে আলোচনায় পুতিন এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউক্রেনের শিশুদের ফিরিয়ে আনতেও সক্রিয় মেলানিয়া
যুদ্ধের সময় রাশিয়ার হাতে চলে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
ওলেশকির পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরটি যুদ্ধের সম্মুখসারিতে অবস্থিত এবং বড় ধরনের বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সেখানে এখন যারা বসবাস করছেন, তাদের অধিকাংশই বয়স্ক মানুষ। তাদের জরুরি চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন।
মেলানিয়া জানান, যুদ্ধবিরতির ফলে দুই দেশের বেসামরিক দলগুলো বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারবে। পাশাপাশি যারা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের রাশিয়া অথবা ইউক্রেনের যেকোনো গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা ও সমন্বিত সহায়তা দেওয়া হবে।
এই কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ করতে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও দলগুলোর সঙ্গে থাকবেন। তবে সংবাদমাধ্যমটির নাম হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ কার্যক্রমের ভিডিও ধারণের জন্য তারা একচেটিয়া প্রবেশাধিকার পাবে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসন শহরের বিপরীতে দিনিপ্রো নদীর অপর পারে অবস্থিত ওলেশকিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশই বয়স্ক। এ ছাড়া সেখানে প্রায় ৫০টি শিশু রয়েছে। যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস হওয়ার পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও তার প্রতিনিধি স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, যারা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছাতে সমন্বিত সহায়তা ও পরিবহন দেওয়া হবে। তার ধারণা, কেউ কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইবেন, আবার কেউ ইউক্রেনে ফিরে যেতে চাইবেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জোরদার হচ্ছে মার্কিন তৎপরতা