দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে কানাডায় থাকতেন খায়রুল ইসলাম জিকু। কিছুদিন আগে বেড়াতে পরিবার নিয়ে দেশে আসছেন তিনি। বিদেশেই স্থায়ী হওয়ার আশাই দেশে নিজের ফ্ল্যাট বিক্রি করার জন্য চেষ্টা করছিলেন জিকু। কিন্তু তার এই কাজে বাঁধ সাধে মামা শ্বশুর কামরুজ্জামান খান।
গত ২ অক্টোবর দক্ষিণ গোড়ান এলাকার বাসার প্রধান গেট বন্ধ করে জিকুর ওপর হামলা করে কামরুজ্জামান খানসহ তার স্ত্রী সন্তানরা। সেখানে তারা জিকুকে মারধরের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রাণে বেঁচে গেলেও গত আটদিন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন কানাডা প্রবাসী জিকু। ওই ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ওই ঘটনায় গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর খিলগাঁও থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করে শান্তা। ওই মামলায় তার মামা কামরুজ্জামান খান, মামী হ্যাপী, তাদের ছেলে হাবিবুর রহমান ও মেয়ে দিনতী হামলার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছে আসামিরা। ঢাকার গুলশানে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সদর দপ্তরে চাকরি করেন আসামি হাবিবুর। তিনি সেখানে নিয়মিত অফিস করলেও পুলিশ তাদের কাউকে খুজে পাচ্ছে না বলে জানায়।
স্থানীয়রা বলছেন, কামরুজ্জামান খান প্রায় তার বোনদের সাথে এমন বাজে ব্যবহার করেন। সম্পদ নিয়ে কেউ তার সাথে কথা বলতে পারেন না। তার ওপরেই তিনি হামলা করেন।
ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম জিকুর স্ত্রী উম্মে কুলসুম শান্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হামলাকারী আমার আপন মামা। খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ান এলাকার ৩১ নম্বর রোডের ৫৪২ ভবনে মায়ের ভাগের একটি ফ্ল্যাট পেয়েছি। আর স্বামী জিকু ওই ভবনে নিজে একটি ফ্ল্যাট কিনেছে। আমরা এখন পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে থাকায় দেশের কিছু সম্পদ বিক্রি করার পরিকল্পনা করি। কিন্তু আমার মামা কামরুজ্জামান খান ফ্ল্যাট বিক্রি করতে বিভিন্ন ভাবে ক্রেতাদের হয়রানি করে। তিনি নিজেই সব সম্পদ জবর দখল করে আছেন।
কাউকেই তার ফ্ল্যাটের পাশে ভিড়তে দিচ্ছেন না, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার দিন বিকেলে আমরা স্বামী-স্ত্রী ওই ভবনে গিয়ে মামার সাথে আলোচনা করতে চাই। কিন্তু তিনি কোনো আলোচনা না বসেই ভবনের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে হামলা করে ঘাতক কামরুজ্জামান। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে তারা সবাই মিলে জিকুকে ধরে ফেলে, এ সময় হামলাকারী কামরুজ্জামান তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে ছুরি দিয়ে উপযুপুরি আঘাত করে। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে বাইরে লোক জড়ো হয়ে যায়। পরে আসামিরা দরজাখুলে পালিয়ে যায়।
শান্তা আরও বলেন, ফ্ল্যাট নিয়ে এর আগে খালাকে মারধর করেন এই পাশুণ্ড। দীর্ঘ ৭দিন ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শনিবার বাসায় ফিরেছেন জিকু। তবে এখন তার অবস্থা বেশি ভালো না বলে জানানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দেশীয় অস্ত্র ও রড এলোপাথারি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে হত্যা নিশ্চিত করতে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের নিচে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে আমার স্বামী জিকু রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়। তখন আমার স্বামী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন আমি তাকে বাঁচাতে গেলে আসামিরা আমাকেও মারধর করে। এছাড়া টানা হেচড়া করিয়া শরীরের থাকা- জামা কাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানী করে। আমাকে গলা টিপ দিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করিয়া হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় আমার কানে ও গলায় থাকা ২ভরি ওজনের স্বর্নের চেইন এবং নাকে ডায়মন্ডের নাকফুল যার মূল্য ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল এবং গাড়ীতে থাকায় নগদ আরও ৫ লাখ টাকা চুরি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আশেপাশের লোকজনের সহায়তায় আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে গত দুইদিন ধরে আসামি কামরুজ্জামান খানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর তাকে ভাগ্নি জামাইকে হত্যা চেষ্টা এবং তাদের সম্পদ দখলের অভিযোগের বিষয়টি লিখে হোয়ার্টসঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও কোনো জবাব দেননি।
ডিএমপির খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিরা করা হয়েছে।