দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আগুনের মুখে দাঁড়িয়ে অজি ইনিংসকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলে একাই ইতিহাস লিখলেন ওপেনার ম্যাট রেনশ। ৩৯৭ বলে ১৯০ রানের বীরত্বপূর্ণ ও মহাকাব্যিক ইনিংসে ডারবানের কিংসমিডে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে এনে দিয়েছেন ৩৯০ রান।
টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ডারবানের বাউন্সি ও কঠিন উইকেটে শুরুতেই মারাত্মক বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দান্ত পেস আক্রমণের মুখে পড়ে একে একে সাজঘরে ফেরেন শীর্ষ সারির সব ব্যাটার- অভিষিক্ত নিক ম্যাডানসন (০), ট্রাফিস হেড (৯), মার্নাস লাবুশেন (৩৭), স্টিভ স্মিথ (২৫), অ্যালেক্স ক্যারি (১৪) ও বিউ ওয়েবস্টার (৪)। দলীয় ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দেড়শতেই গুটিয়ে যাওয়ার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছিল সফরকারীদের।
কিন্তুব্যাটারদের এই আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে অদম্য লড়াই চালিয়ে যান ওপেনার ম্যাট রেনশ। তাকে পরবর্তীতে চমৎকার সঙ্গ দেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও স্পিনার নাথান লায়ন। আজ দ্বিতীয় দিনে প্যাট কামিন্সকে (৪৩) সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক ধস ও বিপর্যয় সামাল দেন রেনশ; সপ্তম উইকেটে গড়ে তোলেন ৮৬ রান। সবচেয়ে বড় চমক দেখান স্পিনার নাথান লায়ন। রেনশ’র সঙ্গে ৯২ বলে ২৭ রানের এক ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে গড়ে তোলেন রেকর্ড জুটির সংগ্রহ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নবম উইকেটে ১৩০ অজিদের সর্বোচ্চ রানের জুটি।
রেনশ ৩৯৭ বল খেলে ৪৬৮ মিনিট উইকেটে একা লড়াই চালিয়ে যান। ২১টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো তার ১৯০ রানের অসামান্য ইনিংসটি থামে সাইমন হারমারের বলে মার্করামের ক্যাচে। শেষ ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হলে অজিদের প্রথম ইনিংস থামে ১৩৭.২ ওভারে ৩৯০ রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন উইয়ান মুল্ডার (৪/৬৮) ও মার্কো ইয়ানসেন (৩/৬৮)। এনরিক নরকিয়া শিকার করেন ২টি উইকেট।