স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি নিয়ে খাজার বোমা, ‘দলের সবাই জড়িত ছিলাম’

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টে আলোচিত ‘স্যান্ডপেপার গেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে দীর্ঘ আট বছর পর বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করলেন উসমান খাজা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী কেবল স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটই এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলা হলেও, খাজা জানালেন এটি দলের যৌথ সিদ্ধান্ত ছিল। এমনকি কেপটাউন টেস্টের আগে কেবেরহা  টেস্টেও বলের ওপর স্যান্ডপেপার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

নিজের লেখা আত্মজীবনী ‘সবর’ প্রকাশের ঠিক তিন দিন আগে আজ গণমাধ্যম নাইন পেপারস-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে খাজা পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন। সাক্ষাৎকারটিতে তিনি সরাসরি বলেন, ‘এটা আমরা সবাই মিলে করেছিলাম। শুধু ব্যাটার, বোলার কিংবা সাপোর্ট স্টাফ নয়, আমরা পুরো দল এতে যুক্ত ছিলাম।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্ত কমিটি ঘটনার পর স্মিথ ও ওয়ার্নারকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং বেনক্রফটকে নয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলেও বাকিদের রেহাই দিয়েছিল।

খাজা আরও প্রকাশ করেছেন যে, ড্রেসিংরুমে ব্যানক্রফটের ঠিক পাশে বসে থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তকারী দল তাঁর কোনো সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য নেয়নি। এ বিষয়ে খাজা জানান, ‘সেই পুরো টেস্ট ম্যাচে আমি ক্যামেরন বেনক্রফটের পাশে বসেছিলাম, অথচ আমার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি। আমার প্রবল ধারণা, ইচ্ছ করেই আমার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি কারণ তারা জানত আমি সত্যটা বলতে প্রস্তুত ছিলাম এবং দলগতভাবে দায় নেওয়ার পক্ষে ছিলাম। আমি ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু ফোন কখনও আসেনি। এরপর শাস্তি ঘোষণা করা হলো, যা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।’ 

দীর্ঘ আট বছর কেন চুপ ছিলেন এবং এখন কেন এই সত্য সামনে আনছেন, তার ব্যাখ্যায় অস্ট্রেলীয় ব্যাটার খাজা বলেন, ‘আদর্শ পৃথিবীতে আমি নিজে এসে এই সত্যের মুখোমুখি হতে চাইতাম না। ভেবেছিলাম আট বছর পর সত্য এমনিতেই প্রকাশ্যে চলে আসবে। ভেবেছিলাম ডেভি (ওয়ার্নার) বা অন্য কেউ এটা উন্মোচন করবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও যখন কেউ মুখ খোলেনি, তখন আমার মনে হলো অন্যায়ের শিকার হওয়া এই তিন সতীর্থের জন্য বিচার পাওয়া উচিত। অন্য কেউ কিছু বলবে না বলেই আমাকে মুখ খুলতে হলো।’ 

ওয়ার্নার-ব্যানক্রফটের জন্য আক্ষেপ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ

দীর্ঘ সময় ধরে এই কেলেঙ্কারির দায়ভার বয়ে বেড়ানো তিন সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন খাজা। বিশেষ করে ডেভিড ওয়ার্নার যেভাবে বছরের পর বছর ক্রিকেট পরিমণ্ডলে খলনায়ক হিসেবে অপমানিত হয়েছেন, সেটিকে তুলে ধরে খাজা বলেন, ‘গত আট বছর ধরে আমি ডেভিকে একের পর এক আক্রমণ সহ্য করতে দেখেছি। একজন বড় মনের মানুষ বলেই সে কিছু না বলে চুপ থেকেছে এবং সব সহ্য করে গেছে। আর ব্যানক্রফটের কথা যদি বলি, সেই ঘটনার পর সে খুব সামান্যই টেস্ট খেলেছে, অথচ সে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রচুর রান করেছে। এই একটা ঘটনা চিরকাল তার মাথায় বোঝার মতো চেপে বসে আছে।’

সেই কেলেঙ্কারিতে সাজা পাওয়া ওয়ার্নার, স্মিথ ও বেনক্রফটের সাথে খাজা, ছবি_ সংগৃহীত

স্মিথের কথা উল্লেখ করে খাজা যোগ করেন, স্মিথ সৌভাগ্যবান যে সে পারফর্ম করে খেলায় ফিরে এসেছে, তবে সেই ট্র্যাজেডির কথা স্মিথও কখনও ভুলতে পারেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার রিভার্স সুইং ও অজিদের ‘অনুকরণ’

স্যান্ডপেপার ব্যবহারের পটভূমি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খাজা প্রকাশ করেছেন যে, প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার রিভার্স সুইং করার অসাধারণ কৌশল দেখেই অজি দল তা অনুকরণ করার চেষ্টা করেছিল। ‘দক্ষিণ আফ্রিকা দল বল রিভার্স করার ক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে অনেক ভালো ছিল। আমরা মূলত তাদের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। তাদের এক ক্রিকেটারের কাছ থেকে শোনা কথা ও তারা কী করত, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমি বইয়ে লিখেছি।’ উল্লেখ্য, তৎকালীন প্রোটিন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি ইতিপূর্বেও বল টেম্পারিংয়ের দায়ে দুবার শাস্তি পেয়েছিলেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিক্রিয়া

খাজার এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা নিজেদের তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, ;২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টের পর থেকে গত আট বছর ধরে প্রচুর জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রাসঙ্গিক যেকোনো তথ্য পেশ করার সুযোগ উন্মুক্ত ছিল এবং এখনও রয়েছে। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যেসব তথ্য এসেছে, তা আমরা সঠিকভাবে বিবেচনা করেছি এবং আমরা আমাদের তৎকালীন অখণ্ডতা বা সততা বজায় রাখার তদন্ত প্রক্রিয়ার ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট।’

তবে সব মিলিয়ে প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী ‘সবর’-এ খাজার এই স্বীকারোক্তি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড এবং তৎকালীন নীতি-নির্ধারকদের নিরপেক্ষতাকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত