আর্থ্রাইটিস সমস্যায় কারা ভোগেন

ডা. মো. রূপালী ইয়াসমিন

রিউমাটোলজি ও আর্থ্রাইটিস বিশেষজ্ঞ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

যে ব্যক্তির রক্তে উচ্চমাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড থাকে তাদের প্রদাহজনক আর্থ্রাইটিস হতে দেখা যায়। প্রদাহজনক আর্থ্রাইটিস সাধারণত গাউট নামে পরিচিত। শীতে শীতকালীন সবজি গাজর, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, পালংশাক বেশি খাওয়ার জন্য গাউট বাড়ে। গাউট-অ্যাকুট হলে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা শুরু হলো পায়ের বৃদ্ধাঙুলে। ফুলে লাল হয়ে যায়। ব্যথার তীব্রতা সাধারণত শেষ রাতে অথবা সকালে বেশি হয়।

কেন হয়

বংশগত কারণে গাউট আর্থ্রাইটিস হতে পারে। আবার  যারা অতিরিক্ত মদ্য পান করে। এ ছাড়া যেসব খাবারে পিউরিন বেশি থাকে সেসব খাবার বেশি খেলে গাউট হতে পারে। কিডনি বিকল রোগ, ডাইউরেটিক জাতীয় ওষুধ সেবন, টিবি রোগের ওষুধ সেবন এবং আরও অন্য রোগের কারণেও গাউট হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ৪০ বছরের পরে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সের পরে গাউটে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

কারণ

রক্ত প্রবাহে ইউরিক অ্যাসিড জমে যাওয়া এবং জয়েন্টে ইউরেট স্ফটিকের গঠন হওয়া, খাবারে নির্দিষ্ট পিউরিনের মাত্রা, স্থুলতা, অতিরিক্ত মদ খাওয়া, সিউডোগাউট বা একিউট ক্যাসিয়াম পাইরোফসফেট  আর্থ্রাইটিস। এ ছাড়া জিনগত ও পরিবেশনগত বিষয়ের কারণেও গাউট হয়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

রোগীর রোগের উপসর্গ ও ইতিহাস নিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতি  নির্ধারণ করবেন। শারীরিক পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে। সিরাম ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নির্ধারণ করার জন্য রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, জয়েন্টের মধ্যে তরলে দ্রুত স্ফটিকের গঠনকে শনাক্ত করার জন্য আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান। নরম টিস্যু এবং হাড়ের পরীক্ষা করার জন্য কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি (সিটি) বা ম্যাগনেটিক রেসোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই)।

চিকিৎসা

প্রসারণের চিকিৎসা করার জন্য ননস্টেরয়েডাল এন্টিইনফ্লেমেটরি ড্রাগস ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধগুলো হলো ইবুপ্রোফেন, স্টেরয়েড এবং এন্টিইনফ্লেমেটরি ড্রাগ কোলচিসিন। গাউটের ব্যথা বাড়লে পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। ফিজিওথেরাপির সাহায্য নেওয়াও হতে পারে। ফোলা ও ব্যথা কমাতে গরম সেঁক দেওয়া। আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন গরু, খাসি, মহিষ, ভেড়া, হরিণের মাংস না খাওয়া; ফুল কপি, বাঁধা কপি, ঘি, মাখন চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়া। গাজর, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, কলিজা, মগজ, কই মাছ, ইলিশ মাছ, গুঁড়া মাছ, পুঁইশাক, পালং শাক ইত্যাদি খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার না খাওয়া। অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা। ব্যায়াম করা। স্বাস্থ্যকর খাবারদাবার খাওয়া।