দিল্লির 'গণগ্রেপ্তারে' জাতিসংঘের উদ্বেগ, জবাব দিল ভারত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টিসহ (সিজেপি) বিরোধীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে 'ব্যাপক ধরপাকড় ও গণগ্রেপ্তারের' ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার দেওয়া বিবৃতির কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। জেনেভায় জাতিসংঘের ভারতীয় স্থায়ী মিশন এই উদ্বেগ প্রকাশকে ‘যথাযথ নয়’ এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস-এর। 

ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়ম ও ব্যাপক নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীরা এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে এই সমাবেশের অনুমতি বাতিল করে এবং দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারির পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষকে আটক করে, যার মধ্যে দলটির শীর্ষ নেতা এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও ছিলেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি ও অন্যান্য সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত বড় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র  এক বিবৃতিতে জানান, 'দিল্লির বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে আন্দোলনকারী, প্রধান নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের নির্বিচারে গণহারে আটকের খবরে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।'

জাতিসংঘ বলেছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্পূর্ণ সম্মান ও সুরক্ষা দিতে হবে। একই সাথে 'অন্যায়ভাবে' যাদের আটকে রাখা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। 

বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট ও গণপরিবহন বন্ধ এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনকে ইঙ্গিত করে জাতিসংঘ বলে, যেকোনো বিধিনিষেধ অবশ্যই 'প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতার' মানদণ্ডে হওয়া উচিত।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত এবং দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহ, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ ও একটি মুক্ত গণমাধ্যম দ্বারা সুরক্ষিত।

মিশনটি বলেছে, ‘নয়াদিল্লিতে আজকের ঘটনা সম্পর্কে মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের মন্তব্য আমরা দেখেছি।’ তারা আরও যোগ করেছে যে, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকরা তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।