২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ক্ষমতা হারাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সরকার পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাচনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব। তবে সে জন্য নির্বাচনব্যবস্থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। খবর দ্য স্টেটসম্যান।
শনিবার (৭ নভেম্বর) কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন অভিজিৎ। সিজেপির ‘যন্তরমন্তর অ্যাট কোচি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজেন্দ্র ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অভিজিৎ অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনরত তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করছে। সরকারের কাছে জ্ঞানেশ কুমার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।
জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে যন্তরমন্তরে প্রবেশের ঘটনায় দিল্লিতে নিজের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে অভিজিৎ বলেন, তাঁর সঙ্গে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এই তেরঙ্গা উত্তোলনের কারণে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুকেও একই কারণে জেলে যেতে হয়েছে। ভারতে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ব্রিটিশ শাসনামলে।’
এনডিএ সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে অভিজিৎ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করছে। তবে গ্রেপ্তার বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে তাঁর আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও জানান তিনি।
অভিজিৎ বলেন, ‘দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ু—দেশের যেখান থেকেই চান আমাকে গ্রেপ্তার করুন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করলেও আমি আবার ফিরে এসে এই তেরঙ্গা তুলে ধরব।’
অভিজিতের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আগে মানুষ কী খাবে, কাকে বিয়ে করবে কিংবা কাকে ভালোবাসবে, তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। এখন মানুষ কাকে ভোট দেবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসআইআর কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। ভারতের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১০ থেকে ১২ বছরে ভারতের মানুষ অনেকটা কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন অভিজিৎ। তবে যন্তরমন্তরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষ আবারও নিজেদের দাবি ও মতামত প্রকাশের সাহস ফিরে পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।