টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হাসানের হ্যাটট্রিক

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম কোনো পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান মাহমুদ। ইকরামকে বোল্ড করে পেস তোপের শুরুটা করেছিলেন এবাদত হোসেন। এরপরই চমক দেখালেন হাসান। ৮৩তম ওভারে একে একে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। কায়েসের উইকেটটাও অসাধারণ এক ক্যাচ নেন লিটন দাস।

এর আগে ২০০৩ সালে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম কোনো বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি। আর ১০ বছর পর ২০১৩ সালে দ্বিতীয়টি করেছিলেন সোহাগ গাজী। তবে তারা দুজনেই ছিলেন স্পিনার। তাই পেসার হিসেবে প্রথম হাসান। 

৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা আফগানদের শুরুর ধাক্কা দেন এবাদত। দিনের পঞ্চম বলেই। থিতু হবার পথে থাকা ইকরাম আলিখিল (৩২) বোল্ড করে ফেরান তিনি। 

এরপরের ওভারেই হাসানের ম্যাজিক। ওভারে তৃতীয় বলটি খানিক নিচু হয়ে ভেতরে ঢুকে গেলে সেটি পড়তে ব্যর্থ হন ইসমত, ফলাফল বোল্ড। এরপরের বলে ফেরান কায়েসকে। এই আফগান ব্যাটারের কানায় লেগে বল যাচ্ছিল স্লিপের দিকে। সেখানেই ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। আর ওভারের পঞ্চম বলে জিয়াকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান। শুরুতে অবশ্য আম্পায়ার সাড়া দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে সফল হন শান্তরা। হাসানের দ্বিতীয় উইকেট হ্যাটট্রিকের, অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন

এদিকে হ্যাটট্রিক নেওয়ার তিন ওভার ইয়ামিনকে ফিরিয়ে ফাইফারও তুলেছেন হাসান। লাল বলের ক্রিকেটে এটি তার চতুর্থ ফাইফার। আর হ্যাটট্রিক-ফাইফারের দিনে আরও একটি কীর্তি গড়েছেন হাসান। ১৭তম টেস্টে ২৯ ইনিংসের ৫০ উইকেট পূর্ণ করলেন তিনি, যা বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেটের সবচেয়ে এলিট এই ফরম্যাটে দ্রুততম। 


আগের দিনে সুবিধাজনক অবস্থানে আফগানরা তৃতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পেসারদের তোপে একেবারে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। হাসানের ফাইফার নেওয়ার পর প্রতিপক্ষের শেষ উইকেটটা তোলেন, এবাদত। এটি মিলিয়ে ইনিংসে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৪। তাতেই ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে শুরু করা আফগানরা অলআউট হয়ে যায় ২৪০ রানে। অর্থাৎ, স্কোরবোর্ডে ২৯ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা। 

তবে একপ্রান্তে উইকেটের মিছিল থাকলে আরেকপ্রান্তে থিতু হয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক রহমত শাহ। ২১৬ বল খেলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।