নিয়োগপত্র পাননি মেধাতালিকায় দ্বিতীয় ফয়জুল!

মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশও পেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার। সেই আশায় ছেড়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফয়জুল আলম।

তার অভিযোগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার নেতিবাচক তথ্যের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। যদিও তার দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লালমোহন উপজেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪৩ জনের মধ্যে ৪২ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাদ পড়েছেন শুধু ফয়জুল আলম। এ ঘটনায় তার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ফয়জুল আলম লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাজী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে। তার কাছে থাকা কাগজপত্র অনুযায়ী, রাজস্ব খাতভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ভোলা জেলায় এ নিয়োগে মোট ২৫৬ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।

ফয়জুল আলম বলেন, পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে তার ওপরই পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব। স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাইবোনদের নিয়ে তার পরিবার। শিক্ষক হিসেবে চাকরি পাওয়ার আশায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। নিয়োগপত্র পেয়ে কর্মজীবন শুরুর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তার সব পরিকল্পনা ভেঙে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমার কাগজপত্রে কোনো সমস্যা নেই। উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, তা বুঝতে পারছি না। আমার মা এ খবর শুনে অসুস্থ হয়ে এখন শয্যাশায়ী। চাকরিটি হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন পুরো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ফয়জুলের দাবি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে তার নিয়োগ আটকে গেছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ডও নেই বলে জানান।

এর আগে তিনবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি ফয়জুল। এবার চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও বাদ পড়ায় হতাশ তিনি। তার ভাষ্য, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আবেদনের সুযোগও নেই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ফয়জুল আলমের বিষয়ে বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন জমাদার বলেন, তার জানামতে ফয়জুল ও তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। পরিবারটি নিম্নবিত্ত। পড়াশোনা শেষে ফয়জুল লালমোহন উপজেলা শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। নিয়োগ পরীক্ষায় উপজেলায় দ্বিতীয় হওয়ার বিষয়টিও তিনি শুনেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ভোলা জেলায় লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফলে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও বাদ পড়া ফয়জুল আলমের বিষয়টি এখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তার দাবি, অভিযোগের যথাযথ যাচাই করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যাতে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের বিষয়টি বিবেচনায় আসে।