বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ৫১ শতাংশ উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কোনো সভ্য সমাজে বাল্যবিবাহের এমন চিত্র অকল্পনীয়।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী সমিতি আয়োজিত ‘লাইভড অ্যাক্সপেরিয়েন্সেস টু মিনিংফুল চেঞ্জ: প্রমোটিং ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক প্র্যাকটিস ইন মেন্টাল হেলথ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ, গ্রেপ্তার কিংবা শাস্তির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন, দক্ষ সমাজকর্মী তৈরি এবং পরিবার থেকে শুরু করে কমিউনিটি পর্যায় পর্যন্ত সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে অনেক সামাজিক সমস্যার চিত্র সামনে আসবে। শিশুটি ঘটনার আগে কোথায় গিয়েছিল, তার পারিবারিক পরিস্থিতি কী ছিল এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটল, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। এমন ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং সমাজের মানুষের মনমানসিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৈরি করে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক অংশগ্রহণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মানুষের অর্থ-সম্পদ কিংবা বাহ্যিক সাফল্য থাকলেও মানসিক সুস্থতা ব্যাহত হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার।