শেকৃবিতে পোড়া তেল জব্দ: শাস্তির দাবি শিক্ষার্থীদের 

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো এবং ব্যবহৃত পুড়া তেল আনার অভিযোগ উঠেছে ক্যান্টিন পরিচালনাকারী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। 

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন তার পরিচালিত আরেকটি দোকান থেকে ১৫ লিটার পোড়া তেল জব্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সহায়তায় এসব তেল জব্দ করা হয়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা গিয়ে দেখতে পান, জব্দ করা তেল ছিল চরম ময়লাযুক্ত এবং তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তেলগুলো পূর্বে অন্য কোথাও রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যান্টিনের এক কর্মচারী জানান, রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টারে বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত পোড়া তেল সংগ্রহ করে পুনরায় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। হুমায়ুন কবিরের পরিচালিত শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানে খিচুড়ি, কাচ্চি, তেহারি ও রোস্ট তৈরিতে নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করা হতো বলে তারা দাবি করেন।  

শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হলের ক্যান্টিনে ব্যবহৃত তেলের মান নিয়ে গত প্রায় ৮ মাস ধরে অসন্তোষ ও অভিযোগ ছিল। তবে এতদিন হাতেনাতে কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন দোকানে বিষাক্ত তেল আনার খবর পেয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা সেখানে পৌঁছান এবং হাতেনাতে তেল জব্দ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যান্টিন পরিচালক হুমায়ুন কবির প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তেলগুলো তার এক বন্ধু রেখে গেছেন, যিনি বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে তেল সংগ্রহ করে সরবরাহ করেন। তবে পূর্বের একই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে আর কখনো এমন তেল না আনার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করলে কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যেকোনো শাস্তি তিনি মাথা পেতে নেবেন।

এদিকে, দোকানে দায়িত্বরত কর্মচারীর বক্তব্যের সঙ্গে পরিচালক হুমায়ুন কবিরের দেওয়া তথ্যে স্পষ্ট অসংগতি দেখা গেছে।

এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক হলের ক্যান্টিনে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দোকান ও ক্যান্টিন স্থায়ীভাবে সিলগালা করার দাবি জানাচ্ছি।

বিষয়টি নিয়ে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি। শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে অভিযুক্তকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।