তালা ভেঙে ঢুকে তালাবন্দি চুয়েট উপাচার্য

আন্দোলনের ২০ দিনের মাথায় প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য। যোগদানের ১৮ দিন পর সোমবার ক্যাম্পাসে ঢুকলেও তাঁকে ভেতরে রেখেই আবার ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের খবর আসার পরপরই ওই রাতে শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইন যোগদান করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলন চলতে থাকায় তিনি ১৮ দিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

অবশেষে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার কিছুক্ষণ আগে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন তিনি। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন উপাচার্য বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছি। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যা যা করার সবই করব।’

তবে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পরপরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ত্যাগের সময় বেঁধে দেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়লে ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য ভবন ত্যাগ না করায় সোমবার দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ (ফাঁকা) ঘোষণা করে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে তারা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

নতুন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার পর দুপুর ১২টার মধ্যে চলে যেতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এসময়ের মধ্যে না যাওয়ায় ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমাদের দাবি একটাই। সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল চাই।’

শিক্ষার্থীদের এই দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ দিন ধরে উত্তপ্ত চুয়েট ক্যাম্পাস। তাদের অভিযোগ, সাবেক উপাচার্যের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল ছিল। তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। তাই তাকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

টানা আন্দোলনে ইতিমধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত এই অচলাবস্থার অবসান চান।

এদিকে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নিলেও শিক্ষার্থীদের তালা দেওয়ার কারণে তিনি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চুয়েটের সংকট নিরসনে আলোচনা চলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

১৮ দিন পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেও এভাবে তালাবন্দি হওয়ার ঘটনা দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।