রাতে ছেলের নিখোঁজের জিডি, সকালে পুকুরে মিলল মরদেহ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকায় পুকুর থেকে মো. হোসাইন (৬) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত হোসাইন ওই এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। তার বাবা চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাড়ির পাশে সহপাঠী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হোসাইন। ছেলেকে খেলতে দেখে ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তার মা। খেলতে খেলতে কোনো একসময় হোসাইন সবার অগোচরে চলে যায়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি স্থানীয়রাও শিশুটিকে খুঁজতে বের হন। এলাকায় মাইকিং করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত ৯টার দিকে আনোয়ারা থানায় ছেলের নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা আব্দুর রহিম। এরপরও স্বজনেরা রাতভর বিভিন্ন জায়গায় হোসাইনের সন্ধান করতে থাকেন।

পরে আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে পানি আনতে গিয়ে কয়েকজন নারী পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা সেখানে ছুটে যান এবং মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থলে যায় আনোয়ারা থানা-পুলিশ।

নিহতের চাচা মো. জাবেদ বলেন, আমার ভাতিজা গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাইনি। এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম, হয়তো কোথাও আছে, খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করতে হলো। এভাবে ওকে হারাতে হবে, কখনো ভাবিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। গতকাল রাতে আমি বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবাকে থানায় জিডি করতে পরামর্শ দিয়েছিলাম। সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে শিশুটির বাড়িতে এসেছি। হোসাইনকে হারিয়ে তার বাবা-মা প্রায় ভেঙে পড়েছেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।