২৬ হাজার কৃষকের স্বার্থে মধ্যবর্তী স্থানে সার ডিলার নিয়োগের দাবি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, কৃষকদের সুবিধা বিবেচনা না করে ডিলার নিয়োগ দিলে তারা ভোগান্তিতে পড়বেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং ইরি মৌসুমে সঠিক সময়ে সার পাবেন না।

এই ইউনিয়নের হাজারো কৃষকের জীবিকা নির্ভর করে কৃষিকাজের ওপর। আর কৃষিকাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সার। কিন্তু সেই সার সংগ্রহ করতে যদি পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ, তাহলে বাড়তি খরচ আর ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে প্রান্তিক কৃষকদের। এমন আশঙ্কা থেকেই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে সার ডিলার নিয়োগের দাবি তুলেছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষক জলিল উদ্দিন বলেন, আমরা জানতে পারছি, এই ইউনিয়নে কৃষকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় না করে একটি পক্ষ মেসার্স নয়ন ট্রেডার্সের নামে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ নয়ন মণ্ডলের প্রস্তাবিত গুদাম ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের পথ। সেখানে ডিলার নিয়োগ করা হলে সার সংগ্রহে কৃষকদের পরিবহন খরচ ও সময় দুটিই বাড়বে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

তিনি দাবি করে বলেন, শুধু আমি নই, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিপাড়া বাজার এলাকা হচ্ছে মধ্যবর্তী স্থান। আর যাঁকে দেওয়া হবে, তিনি এলাকায় বসবাস করেন না। তাঁর নিজস্ব গুদামও নেই। ডিলারশিপের আবেদনে যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অন্য ব্যক্তির পানের দোকান রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬ বছর আগে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নয়ন মণ্ডলসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় চলে যান। তাঁর সাত ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই পরিবারসহ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এলাকায় এবং অন্য চার ভাই জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বসবাস করছেন।

ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া বলেন, নয়ন মণ্ডল তাঁর এলাকার ভোটার হলেও বর্তমানে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের জীবিকা এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা। তাই সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা জরুরি, যাতে কৃষকেরা সঠিকভাবে সার পান।

এ বিষয়ে মেসার্স নয়ন মণ্ডল ট্রেডার্সের মালিক নয়ন মণ্ডল বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। নদীতে বাপ-দাদার জায়গাজমি বিলীন হলে কি জমির মালিকানা শেষ হয়ে যায়? আমি কি এ দেশের নাগরিক নই? সারের ডিলার কেন, চাইলে ফুলছড়িতে চেয়ারম্যান বা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো মিথ্যা। তিনি ছোটবেলা থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ঢাকার ওপর মহলেও তার সুনাম রয়েছে। একটি পক্ষ তার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।