মক্কা-মদিনার বিশেষ নিরাপত্তা

মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দুই নগরী মক্কা ও মদিনা। মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা মুসলমানদের কেবলা। মদিনায় রয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদ ও রওজা মোবারক। ইসলামের ইতিহাস, ইবাদত ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে নগরী দুটির সম্পর্ক গভীর। কোরআনে মক্কার নিরাপত্তার জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়ার কথা এসেছে। হাদিসে মদিনার পবিত্রতা এবং নিরাপত্তার বিশেষ বিধান বর্ণিত হয়েছে।

ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া : কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম বলল, হে আমার প্রতিপালক! এই নগরীকে আপনি নিরাপদ করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস স্থাপন করে, তাদের ফলমূল থেকে জীবিকা দান করুন।’ (সুরা বাকারা ১২৬)

মক্কার নিরাপত্তা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি দেখে না যে, আমি (মক্কার) হারামকে নিরাপদ স্থানরূপে স্থির করেছি। অথচ (মক্কার হারাম ছাড়া) এর চারপাশে যেসব মানুষ আছে তাদের অপহরণ করা হয়। তবে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?’ (সুরা আনকাবুত ৬৭)

এই আয়াতে মক্কার বিশেষ নিরাপত্তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামের আগেও আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটত। কিন্তু মক্কা ছিল বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। মানুষ সেখানে নিরাপত্তা অনুভব করত।

মদিনার নিরাপত্তা যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: মদিনার নিরাপত্তা ও পবিত্রতার বিষয়টি হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। মহানবী (সা.) মদিনাকে পবিত্র এলাকা ঘোষণা করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ইবরাহিম (আ.) মক্কাকে পবিত্র এলাকা ঘোষণা করেছিলেন এবং এর জন্য দোয়া করেছিলেন। আর আমি মদিনাকে পবিত্র এলাকা ঘোষণা করেছি, যেমন ইবরাহিম (আ.) মক্কাকে পবিত্র এলাকা ঘোষণা করেছিলেন। আর আমি মদিনার মুদ ও সা-এর জন্য (পরিমাপের পাত্রে) বরকতের জন্য দোয়া করেছি, যেমন ইবরাহিম (আ.) মক্কার জন্য দোয়া করেছিলেন।’ (সহিহ বুখারি ২১২৯)

এখানে মহানবী (সা.) মদিনাকে পবিত্র এলাকা ঘোষণা করেন এবং সেখানকার মানুষের খাদ্যশস্যের পরিমাপে বরকতের জন্য দোয়া করেন।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার