শিশুর মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব

শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ করেন যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী করা যায় না জানা গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন শ্যামল আতিক

তোমাকে কে বেশি আদর করে, মা নাকি বাবা? এ ধরনের প্রশ্ন করে শিশুকে দ্বিধায় ফেলবেন না। শিশুর হাতে এমন খেলনা দেওয়া উচিত নয়, যা তাকে সহিংস বা হিংস্র করে তুলতে পারে। লাঠি, খেলনা বন্দুক, ছুরি, বা যেকোনো খেলনা অস্ত্র শিশুর হাতে তুলে দেবেন না। আপনার শিশুর খেলনা অন্য শিশুকে দেওয়ার জন্য বলবেন না। এমনকি অন্য শিশু কান্নাকাটি করলেও নয়। বড়জোর আপনি তাকে বলতে পারেন, তার বেশি কিছু নয়। এক সন্তানকে আরেক সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না। প্রতিটি শিশুই অনন্য, এখানে তুলনা চলে না। সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করবেন না। কোনো সন্তানের প্রতি আপনার মমতা একটু বেশি থাকতেই পারে, কিন্তু অন্যদের সামনে প্রকাশ করবেন না।

আপনি নিজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সরকারি কর্মকর্তা হতে পারেননি বলে শিশুর কাছে সেই পেশা প্রত্যাশা করবেন না। আপনার মনপছন্দ লক্ষ শিশুর ওপর চাপিয়ে দেবেন না। ভালো রেজাল্ট না করলে তোমার মামা বা খালা কী বলবে এ ধরনের কথা শিশুকে বলবেন না। শিশুর সামনে কারও শারীরিক সীমাবদ্ধতা (লম্বা, খাটো, নাক বোঁচা ইত্যাদি) এবং গায়ের রঙ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। ছেলে-মেয়ে, ধনী-দরিদ্র, কালো-ফর্সা ইত্যাদি ভেদাভেদ শিশুকে শেখাবেন না। পরিবার থেকেই শিশুরা এসব ভেদাভেদ শেখে, যার প্রভাব পড়ে পরিণত বয়সে। 

শিশুর সামনে খাবার অপচয় করবেন না। শিশুও খাবার অপচয়ে অভ্যস্ত হতে পারে। শিশু পড়ে গেলে অথবা কোথাও ধাক্কা লেগে ব্যথা পেলে আমরা প্রায়শ বলি ওখানে মেরে দাও। এটি ঠিক নয়। এর মাধ্যমে শিশুকে প্রতিঘাত ও প্রতিশোধ নেওওয়ার শিক্ষা দিচ্ছি। সন্তানের কাছে প্রতিদান প্রত্যাশা করবেন না। সন্তান আপনার সম্পত্তি নয়, সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এক গুরুদায়িত্ব। শিশু প্রতিপালনে কখনো নিখুঁত হতে যাবেন না। সব নিয়ম সব শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। একই নিয়ম স্থান-কালের ব্যবধানে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।