আত্মবিশ্বাস নিয়ে জাতীয় দলে ফিরতে চান সাব্বির

দীর্ঘদিনের রানখরা কাটিয়ে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন সাব্বির রহমান। জাতীয় দল থেকে দূরে থাকা এই ব্যাটার জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) খেলেছেন ধৈর্য ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে। টি-টোয়েন্টির আগ্রাসী ব্যাটার হিসেবে পরিচিত সাব্বির এবার লম্বা পরিসরের ক্রিকেটে নিজেকে নতুন করে মেলে ধরতে চান। তার লক্ষ্যও পরিষ্কার। শুধু রান করে নয়, অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করে পরিণত ক্রিকেটার হিসেবেই ফিরতে চান জাতীয় দলে।

মিরপুরে সাব্বির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলে লক্ষ্য তো সবসময় জাতীয় দলে থাকে। এখন এনসিএল নিয়ে কাজ করছি। এনসিএল খেলার আগে ইংল্যান্ডে অনুশীলন করেছি, ম্যাচ খেলেছি। লাল বলের ক্রিকেটে একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। চেষ্টা করছি নিজেকে সময় দিতে, রান করতে। রান করলেই আত্মবিশ্বাস বাড়ে, আর রান করেই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। যতটুকু সম্ভব দলকে অবদান রাখার চেষ্টা করছি।’

খুলনা বিভাগের বিপক্ষে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচে সাব্বিরের ব্যাটে এসেছে প্রত্যাশিত রান। দীর্ঘ ইনিংস খেলার পথে নিজের স্বাভাবিক আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করে দলের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। ২২১ বলে ১১৩ রানের ইনিংসটি খেলতে গিয়ে ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে দীর্ঘ ১ হাজার ৩৩৮ দিন পর তিন অঙ্কের দেখা পেলেন তিনি।

জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সাব্বিরের ভাবনায় তাড়াহুড়োর চেয়ে প্রস্তুতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ ধরে রেখে নিজের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা আনতে চান তিনি। এনসিএলের সাতটি ম্যাচে ভালো করতে পারলে সেই আত্মবিশ্বাস পরবর্তী প্রতিযোগিতাগুলোতেও কাজে দেবে বলে মনে করেন সাব্বির, ‘লক্ষ্য আসলে নির্ধারণ করিনি। এখন এনসিএলে লাল বলের খেলা চলছে, তাই টি-টোয়েন্টির মেজাজে ব্যাটিং করতে পারব না। এনসিএলের সাতটি ম্যাচে ভালো করতে পারলে এই আত্মবিশ্বাস ডি-থ্রি টুর্নামেন্টে কাজে লাগবে। এরপর টি-টোয়েন্টি, একদিনের আন্তর্জাতিক ও চার দিনের ম্যাচ আছে। সব জায়গায় ভালো করতে পারলে কেন নয়? চেষ্টা করছি সব জায়গায় রান করার।’

ম্যাচে সাব্বিরের ১১৩ রানের ইনিংসে ভর করে রাজশাহী দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫০০ রান তুলে খেলা শেষ করে। এর আগে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১১৯ রান। জবাবে শেখ মেহেদী হাসানের সেঞ্চুরিতে ৪৮৪ রান করেছিল খুলনা। শেষ পর্যন্ত ড্র হওয়া ম্যাচে সাব্বিরের ধৈর্যশীল ব্যাটিং রাজশাহীকে লড়াইয়ে ফেরানোর পাশাপাশি তার নিজের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।