বিওএ থেকে সাব্বিরসহ তিনজনের পদত্যাগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে গঠিত অ্যাডহক কমিটির সাধারণ পরিষদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) বর্তমান কমিটি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে কমিটি থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালি সাব্বির, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা ও জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিল। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের আবেদন করলেও তার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিওএর অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাব্বিরের পদত্যাগের চিঠি কেবল শুরু। বর্তমান কমিটির কয়েকজন সদস্যের ভূমিকা ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট আরও অনেকে পদত্যাগের কথা ভাবছেন। বিশেষ করে বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ ও মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানাকে মেনে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে কয়েকজনের। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার অবস্থান জানা যায়নি।

বিওএর বর্তমান কমিটির বৈধতা ও সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। তার মতে, বর্তমান কমিটি নির্বাচনে যারা কাউন্সিলর হিসেবে ভোট দিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের প্রতিনিধি নন। কেউ কেউ ফেডারেশনের কোনো পদেই নেই। আবার বিওএর সাধারণ পরিষদের সদস্যদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যাদের বর্তমানে কোনো ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি তার। আলী ইমাম তপন বলেন, ‘বিওএর বর্তমান কমিটি যাদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে, সেই কাউন্সিলরদের অনেকেই এখন আর ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের তালিকায় নেই। বলতে গেলে ফেডারেশনের কোনো পদেই নেই তারা। আবার এমন অনেক সদস্য আছেন বিওএর, যারা কোনো ফেডারেশনেই নেই। তাহলে বিওএর সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা রইল কোথায়?’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাইরে আছেন, তারা বিওএতে খবরদারি করবেন, আর যারা আমরা কমিটিতে রয়েছি, আমাদের কোনো কর্র্তৃত্ব নেই। এটা হতে পারে না। এটা অলিম্পিকের ধারা ইফেক্টিফ পার্টিসিপেশনের মধ্যে পড়ে না। তাই আমরা কয়েকটি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বসেছিলাম বিষয়টি নিয়ে।’

এ বিষয়ে কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান আলী ইমাম তপন। তবে তাদের আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, বিওএর বর্তমান কাঠামো ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এদিকে সাব্বিরের পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিওএ। পদত্যাগের পর তার শূন্য পদে কাউকে কো-অপ্ট করা হবে, নাকি নতুন করে নির্বাচনের প্রয়োজন হবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে পদত্যাগপত্র আমরা পাঠিয়ে দেব। আরও কেউ পদত্যাগ করলেও সেগুলো পাঠানো হবে। আইওসি যা বলবে, আমরা তাই করব।’ বর্তমান কমিটির সমালোচনার জবাবে তিনি আগের কমিটির প্রসঙ্গও টেনে আনেন। রানা বলেন, ‘বিওএর গত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে অনেকেই পালিয়ে গিয়েছেন। কই, বাকিরা তো আইওসির কথায় দায়িত্ব চালিয়ে গেছেন। তাই আইওসি যা বলবে, আমরা তা-ই করব।’

সব মিলিয়ে বিওএর বর্তমান কমিটি নিয়ে অসন্তোষ, কাউন্সিলরদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন এবং পদত্যাগের সম্ভাবনা ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে কমিটির ভবিষ্যৎ কাঠামো, শূন্য পদ পূরণ কিংবা নতুন নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে আইওসির নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।