সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, আন্দোলনে যাচ্ছে শেকৃবি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনা ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভে ফুসে উঠেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জমি রক্ষা ও গবেষণার অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে আগামীকাল কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নগরীর যানজট নিরসন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।

আন্দোলন কারীদের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা ঐতিহাসিক মাঠটি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন শেকৃবি পরিবার। সম্প্রতি সেখানে নতুন সচিবালয় গড়ে তোলার খবর গণমাধ্যমে আসার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাতছাড়া হওয়া পৈতৃক জমি উদ্ধার ও সেখানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল থেকে বড় ধরনের আন্দোলনে নামছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলনরতদের স্পষ্ট বার্তা গবেষণার জমি হাতছাড়া হতে দেওয়া হবে না। কালকের (বৃহস্পতিবার) কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেবে আন্দোলনকারীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে করা হবে সংবাদ সম্মেলন।

এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন আগারগাঁওয়ের উন্মুক্ত স্থানে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপনার ঐতিহ্য, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, যানজট এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগারগাঁও ও রোকেয়া সরণি এলাকায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য নগর কার্যক্রম বেড়েছে। সেখানে বৃহৎ প্রশাসনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবাগ্রহীতা ও যানবাহনের চলাচল বাড়বে। এতে সড়ক যোগাযোগ, গণপরিবহন, পথচারীদের চলাচল এবং আশপাশের নগরজীবনে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুধু সচিবালয় না রাজধানীটাকেই স্থানান্তরের কথা বলে আসছি সেখানে আগারগাঁও এ আবার নতুন সচিবালয় হলে কোন পরিবর্তন আসবে এমন কোন শক্ত কারণ খুজে পাচ্ছি না। সরকার আগারগাঁও কে নিরব এলাকা ঘোষণা করার পরেও সেখানে শব্দদূষণ খুব একটা কমে নাই সেখানে আবার নতুন করে সচিবালয়ের মত প্রতিষ্ঠান যাওয়ার কোন কারণ দেখছি না। সরকার কি ভেবে এরূপ সীদ্ধান্ত নিচ্ছে তা তারা ভালো বলতে পারবে তবে পরিবেশগত দিক থেকে উন্নত কোন দিক দেখছি না।

তিনি আরও বলেন, যেকোন স্থাপনা কোথাও করতে হলে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয় কিন্তু আমরা ঠিক জানি না  এখানে তা করা হয়েছে কিনা,  যদি না হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তা করা উচিত।  আর মূল্যায়ন হয়ে থাকে তাহলে তা পাবলিক করার দাবি জানান তিনি ।