ওপেনএআইয়ের অফিসে রেকর্ডিং যন্ত্র স্থাপন, অভিযুক্ত সৌদি প্রকৌশলী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কার্যালয়ে গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করার যন্ত্র বসানোর অভিযোগে এক সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আবদুর রহমান আলফোজান প্রতিষ্ঠানটিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। খবর বিবিসির। 

আলফোজানের বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে কিংবা ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে গোপনে কথোপকথন ধারণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোয় তাদের কার্যালয়ে একটি ‘জটিলভাবে তৈরি রেকর্ডিং ডিভাইস’ লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য এফবিআইকে জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের নিজস্ব এআই মডেল ব্যবহার করে ডিভাইসটি শনাক্ত করা এবং এটি কোন কর্মী স্থাপন করেছিলেন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর ওই কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, টয়লেট পেপারে মোড়ানো ডিভাইসটি একটি নির্বাহী বৈঠককক্ষের টেলিভিশনের পেছনে থাকা ইউএসবি পোর্টে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল গোপনে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন রেকর্ড করা।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, আলফোজান তাঁর কর্মস্থলের নির্বাহী বৈঠককক্ষে গোপনে রেকর্ডিং ডিভাইসটি লুকিয়ে রেখেছিলেন, যাতে সংবেদনশীল আলোচনা রেকর্ড করা যায়। প্যাটেলের দাবি, প্রতিষ্ঠানের এআই পণ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এর সম্ভাব্য উদ্দেশ্য।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপেনএআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছিলেন আলফোজান। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ডিভাইসটি খুঁজে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এটি স্থাপনের দুই দিন পর ডিভাইসটি শনাক্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, যন্ত্রটি এনক্রিপ্ট করা ছিল।

ওপেনএআইয়ের দাবি, তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে ডিভাইসটির কার্যপ্রণালি ও উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে কয়েক দিন আগে একজন নির্দিষ্ট কর্মী এটি স্থাপন করেছিলেন বলেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এফবিআই জানিয়েছে, সংবেদনশীল স্থানগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং কীভাবে গোপনে অডিও রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম বসানো যায়, তা জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ‘প্রোডাক্টিভিটি টুল’ ও একটি চ্যাটবট ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটরদের দাবি, চ্যাটবটে তিনি এমন একটি ডিভাইস তৈরি, কাস্টমাইজ, স্থাপন, পরীক্ষা ও আড়াল করার পাশাপাশি দূর থেকে সেটি নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। এ ছাড়া একটানা অডিও রেকর্ড করার যন্ত্র তৈরি, ওয়াই-ফাই সংযোগ কাস্টমাইজ, সরাসরি অডিও শোনা এবং এসডি কার্ড এনক্রিপ্ট করার বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের আরও অভিযোগ, ৫ অক্টোবর আলফোজান কার্যালয়ের ওই কক্ষে ফিরে গিয়ে ডিভাইসটি পরীক্ষা করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তাঁকে ওই স্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ।

একই দিন ভবনের অন্য একটি অংশে একটি ব্যাগ অযত্নে ফেলে রাখেন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যাগটি পরীক্ষা করে একটি মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র এবং বৈঠককক্ষে পাওয়া ডিভাইসটির মতো আরেকটি রেকর্ডিং যন্ত্র খুঁজে পান।

তবে এ ঘটনায় ওপেনএআইয়ের সোর্স কোড, এআই মডেলের ওজনসংক্রান্ত তথ্য (মডেল ওয়েটস) কিংবা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা চুরি করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন আলফোজান। তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মামলাটির অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।