সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে উপজেলার ১৫৯টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, রং, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ প্রায় শেষ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
উপজেলা সদরের ভূঁইয়াবাড়ি দুর্গা মন্দির, গোলক শাহ বাড়ির পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা সাজানোর কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন কারিগররা। পাশাপাশি মণ্ডপের আলোকসজ্জা, প্রবেশপথ নির্মাণ ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। পূজার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন। সাধারণত শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা চলে। এই পাঁচ দিন যথাক্রমে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী হিসেবে পরিচিত। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গাপূজা।
মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি জুটন কুমার মোদক ও অন্য আয়োজকেরা জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব। পূজাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন, স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং আনন্দ ভাগাভাগি করার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে। এরই মধ্যে প্রতিটি মণ্ডপে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্যাপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সব মিলিয়ে মুরাদনগরের ১৫৯টি পূজামণ্ডপে এখন দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।