আগামী বছর বাংলাদেশ দলের সামনে বড় দুই টুর্নামেন্ট। একটি এশিয়া কাপ এরপর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বড় দুই মঞ্চের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে। সেই লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজের সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছে বাংলাদেশ দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্রয়ের পর এবার সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটান ক্রিকেটাররা। ঐচ্ছিক অনুশীলন হলেও অধিকাংশ ক্রিকেটারই যোগ দেন তাতে। অসুস্থতার জন্য ছিলেন না অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের প্রস্তুতি, সামনের চ্যালেঞ্জ এবং অধিনায়ক লিটন দাসকে নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানান আরেক অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট মোসাদ্দেকের ভাবনায় ২০১৯ সালের সেই ত্রিদেশীয় সিরিজ। সেবার আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে আয়োজিত সিরিজে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা এখনো প্রেরণা জোগায় দলকে। সেই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস এবার কাজে লাগাতে চান মোসাদ্দেক। এনিয়ে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে বলব ভালো। ২০১৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজের কথা যদি বলেন, তাহলে সেটা একটা অনুপ্রেরণা। সেই জায়গা থেকে সামনে এশিয়া কাপ এরপর বিশ্বকাপ, একটা ভালো সুযোগ। এই ত্রিদেশীয় সিরিজগুলো জিততে পারলে আমার কাছে মনে হয়, আমরা সামনে খুবই আত্মবিশ্বাস পাব।’
ত্রিদেশীয় সিরিজকে তাই কেবল আরেকটি টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছেন না মোসাদ্দেক। তার কাছে এটি বড় আসরের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের মঞ্চ। আধুনিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তিনি, ‘আধুনিক ক্রিকেট বলেন আর এখন যেভাবে ক্রিকেট চলতেছে, কোনো দেশকেই বা কোনো দলকেই ছোট বলতে পারবেন না। সবাই ওয়ানডে সংস্করণে খুবই ভালো করছে। এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ যে এখানে আমরা কত ভালো করতে পারি এবং পরবর্তী যে চ্যালেঞ্জটা আমাদের জন্য আসবে, এশিয়া কাপ বলেন বা এশিয়া কাপের পরে বিশ্বকাপ বলেন, সেই চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের জন্য মনে হয় সহজ হবে। যদি এই সময়গুলোতে আমরা এখানে দল হিসেবে ভালো করতে পারি।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনও বাংলাদেশের জন্য আলাদা পরীক্ষা। দেশের তুলনায় বেশি গরম আবহাওয়ায় মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রভাব পড়তে না দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ক্রিকেটাররা। মোসাদ্দেকের কথায়, ‘চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে। আমাদের দেশের থেকে এখানে একটু গরম বেশি। গতকালের থেকে আজ আবহাওয়াটা একটু বেশি গরম। আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
মাঠের বাইরের প্রস্তুতিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক লিটনের নেতৃত্বে দল কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিও থাকবে নজরে। লিটনের ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞা ও উইকেটের পেছন থেকে খেলা পড়ার দক্ষতার ওপর আস্থা রয়েছে মোসাদ্দেকের, ‘আমাদের মধ্যে অধিনায়কসহ আলোচনা হয়েছে। সেখানে সবাইকে সবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবাই নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে খুবই পরিষ্কার এবং লিটনকে তো আমরা অনেক দিন থেকেই চিনি। খুবই রোমাঞ্চকর একজন অধিনায়ক। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে যেভাবে ও খেলাটা বুঝতে পারে, সেটা অসাধারণ। সে অধিনায়ক হিসেবে ভালো করবে এবং দল হিসেবে আমরা সেটা প্রমাণ করব।’