মৃত্যুর স্মরণে বদলে যায় ৫ অভ্যাস

মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে মানুষের জীবনবোধ বদলে যায়। দুনিয়ার ব্যস্ততার মধ্যে সে নিজের পরিণতির কথা ভাবতে শেখে। বুঝতে পারে, এই জীবনের কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একদিন সব ছেড়ে চলে যেতে হবে। সঙ্গে যাবে না সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা প্রিয়জনদের কেউ। সঙ্গে থাকবে শুধু নিজের আমল। মৃত্যুর এই উপলব্ধি মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে। নিয়মিত মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে মানুষের পাঁচটি অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

গুনাহ ত্যাগ : মানুষ অনেক সময় গুনাহ করে। পরে তওবা করবে ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। অথচ তার জানা নেই, কখন জীবনের শেষ সময় এসে যাবে। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে এই বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করে। সে উপলব্ধি করে, তওবা করার সুযোগ সব সময় পাওয়া যাবে না। তাই গুনাহের কাজ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করে।

ইবাদতে অবহেলা কমে : দুনিয়ার ব্যস্ততায় মানুষ অনেক সময় ইবাদতে অবহেলা করে। নামাজে দেরি করে, কোরআন তেলাওয়াতের সময় বের করতে পারে না কিংবা আল্লাহর জিকির থেকে দূরে থাকে। মনে করে, পরে নিয়মিত ইবাদত করবে। কিন্তু মৃত্যু যেকোনো সময় আসতে পারে, এই উপলব্ধি তার চিন্তায় পরিবর্তন আনে। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, দুনিয়ার জীবনই আমল করার সুযোগ। মৃত্যুর পর এই সুযোগ আর থাকবে না। তাই সে নামাজসহ অন্যান্য আমলের প্রতি যতœবান হয়।

দুনিয়ার মোহ কমে : সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি, পদমর্যাদা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জনের আকাক্সক্ষা মানুষের জীবনের অংশ। কিন্তু এসব অর্জন করতে গিয়ে কেউ কেউ ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য ভুলে যায়। অন্যের অধিকার নষ্ট করে। হালাল-হারামের সীমা অতিক্রম করে। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে এই প্রবণতা থেকে সতর্ক করে। মৃত্যুর কথা মনে রাখলে মানুষ বুঝতে পারে, দুনিয়ার সম্পদ একদিন অন্যের হাতে চলে যাবে। যে বাড়ি তৈরিতে সারা জীবন ব্যয় করেছে, একসময় সেটি ছেড়ে যেতে হবে। যে পদমর্যাদা নিয়ে গর্ব করেছে, মৃত্যুর পর তা কোনো কাজে আসবে না। তাই সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করলেও সে অন্যায় পথে যেতে চায় না।

মানুষের হক আদায় : মানুষের সঙ্গে চলতে গিয়ে অনেক সময় অন্যের অধিকার নষ্ট হয়। কেউ কারও সম্পদ আত্মসাৎ করে, কেউ মিথ্যা বলে, আবার কেউ কথার মাধ্যমে অন্যকে কষ্ট দেয়। অনেকেই এসব বিষয়কে ছোট করে দেখে। কিন্তু মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে জবাবদিহির কথা মনে করিয়ে দেয়। মানুষ বুঝতে পারে, শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মানুষের অধিকার রক্ষা করাও জরুরি। কারও পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। কারও প্রতি অন্যায় করলে ক্ষমা চাইতে হবে। পরিবার, প্রতিবেশী, সহকর্মী ও সমাজের মানুষের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করতে হবে।

সময়ের সদ্ব্যবহার : মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সময়। একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। অথচ অনেকেই অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করে। প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ফেলে রাখে। নেক আমলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগায় না। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে সময়ের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। সে বুঝতে পারে, জীবনের প্রতিটি দিন কমে আসছে। তাই ভালো কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়।

লেখক : ইসলামি গবেষক