সবাই জীবনে বরকত চায়। উপার্জনে সচ্ছলতা, পরিবারে শান্তি, সুস্থতা ও কাজে সফলতা অর্জন সব মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, আয় বাড়লেও অভাব কাটে না। সময় থাকা সত্ত্বেও কাজ শেষ হয় না। সংসারে প্রয়োজনীয় সবকিছু থাকার পরও শান্তি মেলে না। মানুষের কিছু কাজ ও আচরণ এই বরকত কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
বরকত কী? বরকত অর্থ প্রাচুর্য, স্থায়িত্ব ও কল্যাণ বৃদ্ধি। জীবনে বরকত থাকা মানে শুধু সম্পদ বেড়ে যাওয়া নয়। অল্প সম্পদে প্রয়োজন মিটে যাওয়া, অল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হওয়া, সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করাও বরকতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কল্যাণ লাভ করাই বরকতের মূল তাৎপর্য।
গুনাহে লিপ্ত হওয়া : জীবনে বরকত কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ গুনাহে লিপ্ত হওয়া। যেমন মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, অন্যের অধিকার নষ্ট করা, গিবত করা এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ উপার্জন করার বিষয়টি মানুষের জীবনে অকল্যাণ ডেকে আনে। গুনাহ মানুষের অন্তরকে দুর্বল করে এবং আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই জীবনে বরকত কামনা করলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া জরুরি।
হারাম উপার্জন : উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের সীমা রক্ষা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। সুদ, ঘুষ, প্রতারণা ও অন্যের সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানুষের জীবনে অকল্যাণের কারণ ডেকে আনে। বাহ্যিকভাবে সম্পদ বাড়লেও তাতে প্রকৃত কল্যাণ থাকে না।
অকৃতজ্ঞতা : আল্লাহ মানুষকে অসংখ্য নেয়ামত দিয়েছেন। সুস্থতা, পরিবার, নিরাপদ জীবন, খাবার ও উপার্জনের সুযোগ, এই সবই তার অনুগ্রহ। কিন্তু অনেকে প্রাপ্ত নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ না হয়ে শুধু যা নেই, তা নিয়ে হতাশ থাকেন। এতে জীবনের প্রতি অসন্তুষ্টি বাড়ে। আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম ৭)
লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার