কথাবার্তায় উৎকর্ষ সাধন

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্র ছিল অতুলনীয়। আল্লাহতায়ালা তাকে মহান চরিত্রের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মহান চরিত্রের অসংখ্য দিক ছিল, যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয় এবং কোনো সীমারেখায় আবদ্ধ করা যায় না। তার চারিত্রিক গুণগুলোর অন্যতম হলো, তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কথা বলতেন, তার ভাষা ছিল সবচেয়ে মধুর, কথাবার্তা ছিল সবচেয়ে সুন্দর এবং বক্তব্য ছিল সবচেয়ে যথার্থ।

তিনি কখনো রূঢ় ভাষা ব্যবহার করতেন না। কেউ তার কাছে ভালো কোনো প্রতিশ্রুতি চাইলে তিনি তাকে সুন্দর আশ্বাস দিতেন। কেউ সুসংবাদ প্রত্যাশা করলে তিনি তাকে আনন্দদায়ক কথা শোনাতেন। কাউকে কোনো বিষয়ে ভর্ৎসনা করার প্রয়োজন হলেও তিনি কোমল ভাষায় তা করতেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি সবচেয়ে সুন্দর, মনোরম, কোমল ও শ্রুতিমধুর শব্দ নির্বাচন করতেন। তিনি কখনো কঠোর, রূঢ়, অশালীন কিংবা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতেন না।

নিঃসন্দেহে মানুষের আত্মার পূর্ণতা নির্ভর করে কথা ও কাজের পূর্ণতার ওপর। নবীজি (সা.) কথা ও কাজ উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। মানবিক উৎকর্ষের সর্বোচ্চ শিখরে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন।

যে ব্যক্তি তার সুন্নাহ অধ্যয়ন করবে, সে দেখবে, পবিত্রতা ও নির্মলতার অর্থ বহনকারী উত্তম শব্দ ব্যবহার এবং শুভ ও সুন্দর অর্থ প্রকাশকারী নাম গ্রহণের প্রতি তিনি মানুষকে উৎসাহিত করেছেন। তিনি সুন্দর নাম পছন্দ করতেন, তা থেকে শুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন এবং অসুন্দর নাম অপছন্দ করতেন ও তা পরিবর্তন করে দিতেন। তিনি মুমিনদের এমন দুটি শব্দের মধ্যে অধিক কোমল ও উপযুক্ত শব্দটি বেছে নিতে শিখিয়েছেন, যেগুলোর অর্থ একই বা কাছাকাছি।

হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহ নিজ সত্তা, গুণাবলি, কাজ ও কথায় পবিত্র। তিনি কেবল পবিত্র বস্তুই কবুল করেন। তিনি উত্তম কথাই ভালোবাসেন। সৃষ্টির পক্ষ থেকে তার কাছে কেবল পবিত্র ও উত্তম কথাই উপযুক্ত। মানুষের উত্তম কথাই তার দিকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করে। তিনি উত্তম কথা বলা মানুষদের ভালোবাসেন।

অন্যদিকে তিনি নিকৃষ্ট ও অপবিত্র কথা অপছন্দ করেন। তিনি অনর্থক কথাবার্তা, পরচর্চা এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারীদের অপছন্দ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো বস্তু থাকবে না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল ও কদর্য ভাষায় কথা বলা ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন।’

হে আল্লাহর বান্দারা! উত্তম কথা আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি এবং জাহান্নামে প্রবেশ থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো, যদিও তা খেজুরের অর্ধেক দান করার মাধ্যমে হয়। আর যে তা পায় না, সে যেন একটি ভালো কথা বলে।’ হে মুমিনরা! আল্লাহ তার নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি যেন মানুষকে পরস্পরের সঙ্গে উত্তম আদব ও কোমল ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দেন। কথোপকথন ও মতবিনিময়ের সময় যেন তারা দুটি কথার মধ্যে অধিক সুন্দর কথাটি বেছে নেয়। শরিয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং হৃদ্যতা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করা।

হে মুসলমানরা! যে কথা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়, তাই উত্তম কথা। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমে সালাম দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া এবং উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া। এসব কাজের প্রতিটিই সদকা হিসেবে গণ্য হয়।

৯ অক্টোবর শুক্রবার, মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান