কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এক রাতে ৫১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবারসহ মোট আটক ২ হাজার ৫৬১ জন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। আইফোন ছিনতাই ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
কুমিল্লার পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও অপরাধ প্রবণতা রুখতে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরেও এই অভিযান ছড়িয়ে পড়েছে। নোয়াখালীতেও বিভিন্ন দফায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে শতাধিক কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। এতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, ডিবি এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
লুৎফুর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১৮টি থানা ও ডিবির সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সর্বশেষ ২ অক্টোবর রাতে পঞ্চম দফার অভিযানে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৯১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই অভিযানে আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের আগের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল। আজ শুক্রবারসহ মোট ২ হাজার ৫৬১ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকা এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।