নেত্রকোনার সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার, এখনো হয়নি মামলা

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাবেক সেনাসদস্য ও সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো মামলা হয়নি। তবে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতী সাংমা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাতেই অভিযোগ দায়ের হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।

নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির বেসরকারি আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে নিশ্চিত করেন ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। তিনি জানান, নিহতের স্ত্রী এ ঘটনায় বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলঞ্জি এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির সামনের একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন লুৎফুজ্জামান ফকির। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্র ও চায়ের দোকানের মালিক রবিন রাংসা জানান, ঘটনার রাতে দোকানে বসে চা ও সিগারেট খাচ্ছিলেন আলিফ ফকির। একপর্যায়ে আরও দুই যুবক দোকানে এসে সিগারেট খান। পরে তারা দোকানে মোবাইল ফোন ফেলে রেখে চলে যান। কিছুক্ষণ পর মোবাইল নিতে ফিরে এসে ওই দুই যুবক পরপর কয়েকটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে একটি ৯ এমএমের তাজা গুলিও উদ্ধার করা হয়।

এদিকে শুক্রবার নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে নিহত সাংবাদিকের মরদেহ কলমাকান্দা উপজেলার পুগলা ইউনিয়নের চরুলিয়া মাইজপাড়া ফকিরবাড়িতে দাফন করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরের তেরীবাজার এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন লুৎফুজ্জামান ফকির। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দুজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় নেত্রকোনাজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া কারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের শনাক্ত করতেও তদন্ত চলছে।

এদিকে শেরপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা জানান, নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে র‍্যাব। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।