শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সারা বছর আমি এই সময়টির অপেক্ষায় থাকি। প্রতি বছর আমি বাবা-মা এবং স্বজনদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পূজা দেখতে যাই। এ ছাড়াও আমরা আরও কিছু পূজাম-পে যাই। ষষ্ঠীর দিন থেকেই আমরা পূজাম-পে যাওয়া শুরু করি। এই দিন পূজা শুরু হয় বলে ভিড় কিছুটা কম থাকে। পূজাম-প অনেক সুন্দর আলোকসজ্জায় সজ্জিত থাকে। ম-পে ঢুকতেই ধুপের গন্ধে মন ভরে যায়। বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র যেমন ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা, শঙ্খের শব্দে আনন্দে মন নেচে ওঠে। সেই সঙ্গে সুন্দর গান-বাজনা হয়। আমার সবচেয়ে পছন্দের পূজার গান হলো ‘ঢাক বাজা, কাঁসর বাজা’। এ সময় ‘বলো দুর্গা মায় কী? জয়! ধ্বনি দিয়ে আমি বড়ই মজা পাই। পূজার সময় কদমা, বাতাসা, নকুল দানা, পাপড়, হাওয়াই মিঠাই, বিভিন্ন ধরনের খাবার আমার অনেক ভালো লাগে। আমাদের বাসায় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন নাড়ু, মোয়া, মুড়কি, নিমকি এগুলো তৈরি করা হয়, যা অত্যন্ত সুস্বাদু। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি যেমন রসগোল্লা, গোলাপজাম, চমচম প্রভৃতি কিনে আনা হয়। পূজার সময় আমি আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুবান্ধবদের বাসায় বেড়াতে যাই। তখন একেবারে ভূরিভোজন হয়। আবার আমাদের বাড়িতেও অনেকে বেড়াতে আসে। এভাবে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমীর দিনগুলো আনন্দে যায়। নবমী দিনেও পূজা কিছুতেই মিস করা যায় না। তারপরের দিন বিজয়া দশমী। তাই শেষ দিন হলো নবমীর দিন। এই দিন মনে আনন্দ থাকলেও পরের দিন প্রতিমা বিসর্জন, এই ভেবে দুঃখও হয়। দশমীর দিনে বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। ঢাকা শহরে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন হয়। বিসর্জনের আগে হয় বিবাহিত মহিলাদের সিঁদুর খেলা। প্রতিমার পায়ে সিঁদুর লাগানোর পর তারা সিঁদুর দিয়ে খেলতে থাকে। এরপর একে একে সব প্রতিমা দুঃখের সঙ্গে বিসর্জন শুরু হয়। আমার একবার কক্সবাজারে সমুদ্রে প্রতিমা বিসর্জন দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে।