পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ, প্রকল্প পরিচালক-ঠিকাদারকে জরিমানা

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের ঘটনায় এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর দেশ রূপান্তরে ‘পাহাড় কাটা থামছেই না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

পরিবেশ অধিদপ্তরের লিখিত এক আদেশে নির্ধারিত অর্থ সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং শুনানি শেষে এ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, চকরিয়ার হারবাং এলাকায় সংরক্ষিত বনের দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হারবাং ফরেস্ট অফিস থেকে কোরবানিয়াঘোনা পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদন ও নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাহাড় কেটে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কারণে পরিবেশের ক্ষতিসাধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, শুনানি শেষে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৯-এর আলোকে পাহাড় কাটার কারণে ঊহারৎড়হসবহঃধষ উধসধমব অংংবংংসবহঃ করা হয়। এতে পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যে দুজনকে জরিমানা করা হয়েছে তারা হলেন সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোমিনুল হক।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকেও পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হারবাং বনবিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। মামলার নম্বর ০৪/হার, চুন অব ২০২৬-২৭।