বাংলাদেশকে ২৭২ রানের টার্গেট দিয়েছে জিম্বাবুয়ে

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে গতকাল শুরুতেই তাসকিন আহমেদের আগুনে বোলিংয়ে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে সেই ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের বোলারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলর। অভিজ্ঞ দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তবে সেঞ্চুরির পথে ছোটা আরভিন-টেইলর দুজনেই আক্ষেপ নিয়ে ফেরেন। এতে বড় দলটির বড় সংগ্রহের স্বপ্নে ধাক্কা লাগে। কোনোরকম আড়াই শ পার করে ২৭১ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের।   

আবুধাবিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিনের শিকার হন ব্রায়ান বেনেট (০)। এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। নিজের তৃতীয় ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তার শিকার বেন কারান (৬)। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি। কিছুক্ষণ পর তাফাদজা সিগাকে (১৬) উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ বানিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন তাসকিন। দলীয় ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে হাল ছাড়েনি সিকান্দার রাজার দল। 

অভিজ্ঞ আরভিন ও টেইলর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। উইকেটে থিতু হয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। একদিকে উইকেট আগলে রেখে ইনিংস এগিয়ে নেন আরভিন, অন্যদিকে টেইলরও রান তোলার গতি সচল রাখেন। তাদের প্রতিরোধে শুরুর দাপট ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। এর মধ্যে ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন টেইলর। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের চেয়ে ৩০ রান পিছিয়ে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ১৬তম ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের বলে বাউন্ডারি মেরে ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে যান তিনি। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ হয়েছিল ৬ হাজার ৭৮৬ রানে।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের মাঝামাঝিতে দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নেন সাইফ হাসান

এদিকে, ফিফটি করার পর একবার বেঁচে যান আরভিন। রিশাদ হোসেনের ওভারের শেষ বলে ব্যাটে খেলতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশের বোলাররা এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করলেও লিটন দাস অসুস্থ থাকায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা তাওহীদ হৃদয় রিভিউ নেননি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল আঘাত করত অফ-মিডল স্টাম্পের ওপরের অংশে। সুযোগ পেয়ে দেড় শ রানের জুটি গড়েন আরভিন-টেইলর। বাংলাদেশের সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে এই জুটি ভাঙেন সাইফ হাসান, সেরান ৮১ রান করা টেইলরকে। নিজের করা দ্বিতীয় ওভারে রাজাকে আউট করেন এই অফ স্পিনার। সেখানই জিম্বাবুয়ের বড় রানের পুঁজির স্বপ্নে ধাক্কা লাগে। আরভিন শরীফুলের বলে ৯৩ রানে আউট হলে পরের ব্যাটারদের ছোট ছোট অবদানে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৩টি এবং সাইফ ও শরীফুল ২টি করে উইকেট নেন।