ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের টোবাগো দ্বীপের গভীরে বিস্তৃত নারিকেল গাছের সারি। এ ছাড়াও বেশ কিছু মুখরোচক ফল গাছের বাগান রয়েছে দ্বীপের মধ্যে। একজন পর্যটক সবুজ রঙের একটি ফল মুখে পুরলেন। মুখে দেওয়া মাত্র হঠাৎ ছটফট করতে থাকেন তিনি। কিছুক্ষণ পর হাত-পা অবশ হয়ে যায়। গলা এবং জিহ্বায় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে থাকে। এরপর সেই ফল তার হাত থেকে পড়ে যায়। ‘মাঞ্চিনিল’ নামের গাছের ফলগুলোকে স্থানীয়রা ইবধপয অঢ়ঢ়ষব বলেন। কিন্তু এর বাইরে আরেকটি নাম রয়েছে। তা হচ্ছে চড়রংড়হ এঁধাধ বা বিষাক্ত পেয়ারা। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক বৃক্ষের নাম ‘মাঞ্চিনিল ট্রি’। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাস এই গাছের নাম দেন, ঐরঢ়ঢ়ড়সধহব হিসেবে। ‘ঐরঢ়ঢ়ড়’ অর্থ ঘোড়া, আর ‘গধহব’ অর্থ পাগল। গাছটির নামের গ্রিক অনুবাদ দাঁড়ায়, ‘পাগলা ঘোড়া’। ফল সেবনের পর একটি ঘোড়ার পাগল হয়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে,
থিওফ্রাস্টাস এর নামকরণ করেছিলেন। উচ্চতায় মাঞ্চিনিল গাছ প্রায় ৪০ ফুট। স্থানীয়রা বিষের সাহায্যে বন্যপ্রাণী শিকার করে। অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়ার কথা জানা যায়। এ কারণে, অনেক দ্বীপে গাছের কাণ্ড কিংবা বাকল স্পর্শ করা নিষেধ। যদিও এর মাধ্যমে মৃত্যু ঘটতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। এর বিষাক্ততা নিয়ে বিজ্ঞানীরা হতবাক। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, অন্যান্য বিখ্যাত বিষাক্ত গাছ ও ফলের তুলনায় এদের বিলুপ্তির সম্ভাবনা কম।