ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে মস্কোর পোয়াবারো

চলতি সপ্তাহেই রাশিয়ার ডিজেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে নতুন করে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তীব্র এই কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একগুচ্ছ নতুন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দিয়েছেন ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে গত শুক্রবার রাতে এক নির্বাহী আদেশে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থেই’ এসব নিষেধাজ্ঞার বড় একটি অংশ স্থগিত রাখা হয়েছে। অথচ গত মাসে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটÑ উভয় দলের সম্মতিতে পাস হওয়া বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন খোদ ট্রাম্প নিজেই। ওই আইনে রাশিয়ার অর্থনীতিকে ঘায়েল করতে দেশটির তেল-গ্যাস কেনা শীর্ষ দেশগুলোর (বিশেষ করে চীন ও ভারত) ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্পকে।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। এর আগে দেশে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনার কথা জানান ট্রাম্প। বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটÑ উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভøাদিমির পুতিনসহ রাশিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং আগে থেকে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিতে ব্যবহার করা মস্কোর ‘ছায়া নৌবহরের’ ওপর কড়াকড়ির বিধান ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সেই বিধানগুলোর বড় অংশই আটকে দিলেন ট্রাম্প।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত আইনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের এই সিনেটর ১১ জুলাই মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের অন্যতম জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিবিসি জানিয়েছে, এই আইনের ১১৫ নম্বর ধারায় একটি বিশেষ বিধান ছিলÑ যেখানে বলা হয়, যদি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হয় তবে প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক ছাড় দিতে পারবেন। সেই ক্ষমতার বলেই ট্রাম্প এই ছাড় ঘোষণা করেছেন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার অভিযোগ করেছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মাধ্যমে ট্রাম্প মস্কোর কাছে নতি স্বীকার করছেন এবং ইউক্রেন ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন থেকে সরে আসছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেয়ার লেখেন, ‘পুতিনের কাছে ট্রাম্পের সর্বশেষ আত্মসমর্পণ আবারও আমাদের ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের শাস্তি দিতে প্রণীত আইনটির বিষয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট অভিপ্রায়কেও উপেক্ষা করেছে।’

এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার ৯টি অঞ্চলে চালানো এসব হামলায় দুটি শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করার অংশ হিসেবে খারকিভ, ক্রামাতোরস্ক, ভোলিন ও রিভনে অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। খারকিভের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, পূর্বাঞ্চলীয় শহরটির তিনটি জেলায় হামলা হয়েছে; নিহত হয়েছেন দুজন। দোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্মুখসারির শহর ক্রামাতোরস্কে দুজন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোলিন অঞ্চলে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর রোমান রোমানিউক।