ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লি বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর ‘ইন্ডিয়া জোট’ ও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) একই দাবিতে পৃথক কর্মসূচিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এবার সিইসির অপসারণের দাবিতে চেন্নাইতে বিক্ষোভ শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রী কাজাগাম (টিভিকে)। বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর সিইসিবিরোধী কোনো বিক্ষোভে দলটির এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির (টিএনসিসি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় নানা অনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে চেন্নাইয়ের এ কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক সাতটি দলের নেতারা অংশ নেন। বিক্ষোভে টিভিকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির নেতা ও তামিলনাড়ুর স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এ. রাজমোহন। এ ছাড়া বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচির (ভিসিকে) সভাপতি ও সংসদ সদস্য থল থিরুমাভালাভান, মারুমালারচি দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা কাজাগামের (এমডিএমকে) সাধারণ সম্পাদক ভাইকো এবং বিভিন্ন বামপন্থি দলের নেতারা অংশ নেন। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি ভোটারকে সুপরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশই মুসলিম, ক্ষুদ্র-জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। শুধু তামিলনাড়ু থেকেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। বক্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের এ প্রক্রিয়া সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণœ করছে। পুরো বিষয়টিকে ‘গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ক্ষমতাসীন বিজেপির সুবিধা করে দিতেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজি করা হচ্ছে।
এর আগে ১০ অক্টোবর চেন্নাইতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান বিজয়ের একটি বৈঠক হয়। সে বৈঠকে ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় এবং তার দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলির নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন রাহুল। বৈঠকে দুই নেতা বেশ কিছু রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন। সম্প্রতি ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের বিজয়ের জন্য থালাপতি বিজয়কে অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম বৈঠক।