ত্রিমুখী লড়াইয়ে রণক্ষেত্র ইয়েমেন

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরানপন্থি হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ছেই। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের রাজধানী এডেনের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, লোহিত সাগর উপকূলের সৌদি শহর ইয়ানবুর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তারা। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বলছে, তারা রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে মারিব প্রদেশে অগ্রসর হয়েছে। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, আকাশপথে সহায়তা নিয়ে সরকারি বাহিনী প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য এলাকা দখলে নিয়েছে।

ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এডেন থেকে কায়রোগামী ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি বিমান অল্পের জন্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি বলেন, গত শুক্রবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সে সময় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উড়োজাহাজটি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার (প্রায় ১ হাজার ৬৪০ ফুট) দূরে ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, উড়োজাহাজের যাত্রী ও ক্রুরা সবাই নিরাপদে আছেন। বিমানবন্দরে এ হামলাকে তিনি আন্তর্জাতিক আইন আর রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তবে হুতিদের এক সামরিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এডেন প্রদেশে বদর সামরিক শিবিরে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর ও একটি অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এডেন ছাড়াও হুতিদের ছোড়া ইয়ানবুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছে সৌদি জোট। রিয়াদের নেতৃত্বাধীন জোটের ভাষ্য, লোহিত সাগরের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল ও রিয়াদ অঞ্চলে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব হামলার জন্য কারা দায়ী, তা জানায়নি জোটটি। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইয়ানবু। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে শহরটি সৌদিকে সুযোগ করে দেয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার ভোরে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবহায় সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্র্তৃপক্ষ। পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। এর আগে জিজান অঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। গতকাল ভোরে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাদা শহরের পূর্ব দিকে হামলার খবর জানায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, ওই এলাকায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। ইয়েমেনের অন্যতম রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী হুতিদের কয়েকটি ‘বড় ধরনের’ হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এতে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তাইজে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটকের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

হরমুজে সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, ২০ লাখেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার সময় সামুদ্রিক মাইনে আঘাত করেছে। অননুমোদিত পথে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘর্ষের ফলে জাহাজে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। আইআরজিসির অভিযোগ, ট্যাংকারটি সব ট্র্যাকিং ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ। ইরানের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে যেসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর ভরসা করবে, তাদের গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।