তথ্য কমিশন পুনর্গঠন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক নাহরিন

তথ্য কমিশন পুনর্গঠন করেছে সরকার। প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে। তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দুই সাংবাদিক এসএএম মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন।

গতকাল শনিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের পদর্মযাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগের সময় নিয়োগ পাওয়া তথ্য কমিশন ভেঙে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর ছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর গত ৯ জুলাই তথ্য কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন করে বাছাই কমিটি গঠন করে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের ওই বাছাই কমিটিতে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এর মধ্যে গত ২১ আগস্ট আন্দালিভ রহমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে বাছাই কমিটির কোরাম সংকট দেখা দেয়। তথ্য কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে যায়। পরে জামালপুর-৩ আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে বাছাই কমিটিতে যুক্ত করায় আবারও কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। বাছাই কমিটি প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে দুজন করে ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেন।

প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে জার্মানির মারবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সাংবাদিক এসএএম মাহফুজুর রহমান বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক সম্পাদক। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অপর তথ্য কমিশনার খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন দৈনিক দিনকালের সহকারী সম্পাদক ছিলেন।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তথ্য কমিশন গঠিত হয়। কোনো ব্যক্তি তথ্য চেয়ে না পেলে কমিশনে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের শুনানি শেষে কমিশন জরিমানা আরোপ, ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।