কলকাতায় পদপিষ্ট হয়ে নিহত ১৭

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মন্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন বহু দর্শনার্থী। তাদের মধ্যে অন্তত ২৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কলকাতা পুলিশ জানায়, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মন্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রবেশপথে পদদলনের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত মন্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনুসন্ধান হবে। কারা দায়িত্বে ছিল, তা দেখা হবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও আনা হবে বলে জানান শুভেন্দু।

গতকাল সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর এবং মধ্য কলকাতায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় তৈরি হয় তীব্র যানজট। সে সময় চোরবাগান সর্বজনীনের মন্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। বৃষ্টির কারণে পূজামন্ডপের ভেতরে হুড়াহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মন্ডপের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ। তারা পরস্পরকে ঠেলাঠেলি করতে থাকেন। তাতেই কয়েকজন মন্ডপের ভেতরে বৃত্তাকার পথে পড়ে যান। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। উৎসবের আবহ মুহূর্তের মধ্যে শোক ও আতঙ্কে বদলে যায়। হুড়াহুড়ির সময় অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাদের কয়েকজনকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পেছন দিক থেকে ধাক্কা আসতে থাকলে সামনের সারিতে থাকা অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাদের ওপর একের পর এক মানুষ পড়ে যাওয়ায় অনেকে নিচে চাপা পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আটকে পড়া দর্শনার্থীদের উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তিনি তিন বান্ধবীকে নিয়ে মন্ডপ থেকে বের হচ্ছিলেন। বাইরে বৃষ্টি হওয়ায় অনেকে ম-পের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় পেছন থেকে প্রবল ধাক্কা আসে। সামনে থাকা দর্শনার্থীরা পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়তে থাকেন। তার তিন বান্ধবীও ভিড়ের নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মন্ডপের অন্য একটি অংশ ভেঙে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ করেন, মন্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ দুটিই ছিল সরু। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। তার মেয়ে ও নাতনি এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুঃখ প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ অনেকে।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লেখেন, চোরবাগান পূজাম-পে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও সাহসের জন্য প্রার্থনা করছি।

দুর্ঘটনার দিনেই শনিবার কলকাতা সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ রবিবার রাজ্যে তার যেসব কর্মসূচি ছিল তা বাতিল করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত