কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন

কানাডার আলবার্টা প্রদেশে একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা আগুনের সূত্রপাতের কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। খবর বিবিসির। 

পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ও স্পর্শকাতর’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, কানাডার সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) আলবার্টার কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েইনরাইটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এটি দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র। 

কানাডার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরাসরি গোলাবর্ষণভিত্তিক প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি গ্যাস পাইপলাইন বা গ্যাসকূপে আঘাত লাগার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, সেখানে ‘একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করা গুরুতর দুর্ঘটনা’ ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত সব সাহসী নারী ও পুরুষের কথা আমার চিন্তায় রয়েছে।’

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (সিবিসি) জানিয়েছে, এ ঘটনায় এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে ‘কোড অরেঞ্জ’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক হতাহতকে সামাল দিতে হাসপাতালগুলো যে বিশেষ জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করে, এটি তারই একটি সংকেত।

সিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ওয়েইনরাইট সামরিক ঘাঁটিটি কানাডার সেনাবাহিনীর সরাসরি গোলাবর্ষণভিত্তিক প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সাধারণত সেখানে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক সদস্য এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অবস্থান করেন।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।