ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন জেডি ভ্যান্স

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ফ্রান্সের লিমোজ শহরের টাউন হলে আগুন জ্বলতে থাকার একটি ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। খবর ফ্রান্স ২৪। 

ভ্যান্স লেখেন, 'বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থীরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তাঁরা অভিবাসীদের একীভূত হওয়া এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছেন। তাঁদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, এর পরিণতি এমন হতে পারে। কিন্তু তাঁরা সে সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি।'  

তিনি আরও লেখেন, 'আমি প্রার্থনা করি, অসাধারণ মানুষের দেশ সুন্দর ফ্রান্স যেন এই উন্মাদনা বন্ধ করে, যাতে দেশটির আরও ঐতিহাসিক স্থাপনা আগুনে পুড়ে না যায়।'

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্স ফ্রান্সের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও যোগসূত্র টেনেছেন। আগামী ৩ নভেম্বর কংগ্রেসের আসনগুলোর জন্য এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভালো ফল করার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।
 
ভ্যান্স বলেন, 'আমি আশা করি, আমেরিকানরা বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে দেখছেন। ডেমোক্র্যাটরা আপনাদের দেশের জন্য এমন ভবিষ্যৎই চায়।' 

গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত দেশব্যাপী মিছিলগুলো একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

৪২ বছর বয়সী ভ্যান্স রিপাবলিকান পার্টির জাতীয়তাবাদী ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির সবচেয়ে জোরালো সমর্থকদের একজন হিসেবে পরিচিত। ইউরোপের অভিবাসননীতিরও নিয়মিত সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, ইউরোপের দেশগুলো অভিবাসনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শিথিল নীতি অনুসরণ করছে।

এদিকে ফ্রান্সজুড়ে শনিবারের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় ১৮০০ এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তবে এসব সহিংসতা শান্তিপূর্ণ মিছিলের প্রান্তিক অংশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শনিবারের বিক্ষোভে ৫০০ জনের বেশি পুলিশ, জেনদারমেরি বাহিনীর সদস্য ও দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। হতাহতের এ সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়।