পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আমাদের অটুট এক সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্ক মানবতার। দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে কেউ কষ্ট পেলে তার ভার যেন আমাদের মনেও লাগে। কেউ সুখে থাকলে সেই আনন্দ যেন আমাদের জীবনকেও স্পর্শ করে। এ অনুভূতিই ইসলামের চাওয়া। ইসলাম মানুষের ভেতরে এমন এক কোমলতা গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়, যা তাকে অন্যের জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল করে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা মায়েদার ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো।’
এ নির্দেশনার আলোকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা এবং মানুষের দুঃখ লাঘবের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’ (সহিহ বুখারি)
এই হাদিস মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। একজন মুমিন নিজের জন্য যে সম্মান, নিরাপত্তা ও সুখ কামনা করেন, অন্যের জন্যও তা কামনা করবেন।
ইসলামের কল্যাণবোধ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাণীদের প্রতিও দয়া প্রদর্শনের নির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলেন। (সহিহ বুখারি) এ ঘটনা প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের গুরুত্ব প্রমাণ করে।
অন্যদিকে, কারও ক্ষতি করা, অন্যের অধিকার নষ্ট করা কিংবা দুর্বলকে নির্যাতন করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। প্রকৃত মুমিন নিজের আচরণে অন্যের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষের প্রতি সহমর্মী হওয়া, সবার মঙ্গল কামনা করা এবং সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করা। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সামাজিক পরিসর পর্যন্ত এই মূল্যবোধের চর্চা বাড়লে পৃথিবী আরও শান্তিপূর্ণ ও মানবিক হয়ে উঠবে।