ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অপরাধী ধনী হোক কিংবা গরিব, তার সামাজিক মর্যাদা বা ক্ষমতার কারণে বিচারের ধরন বদলানোর সুযোগ নেই। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অর্থ ও প্রভাবের কারণে ধনীরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যান। অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ একই অপরাধে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হন। এমনকি দরিদ্রদেরকে লঘু অপরাধে গুরু দণ্ডও দেওয়া হয় অহরহ।
এমন বৈষম্য মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে। ইসলাম এ ধরনের পক্ষপাতমূলক বিচার সমর্থন করে না। বরং সবার প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য ন্যায়সংগত সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে যায়। সে ধনী হোক বা গরিব, আল্লাহই উভয়ের ঘনিষ্টতর।’ (সুরা নিসা ১৩৫)
এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ধনী-গরিবের পার্থক্য করা যাবে না। কেউ ধনী বলে তাকে অন্যায়ের দায় থেকে মুক্তি দেওয়া যাবে না। আবার কেউ গরিব বলে তার প্রতি অযথা কঠোর হওয়াও অন্যায়। বিচার হতে হবে সত্য, প্রমাণ ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে।
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। তোমরা ন্যায়বিচার করো। এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা মায়েদা ৮)
ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, সম্পর্ক কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে বিচারপ্রক্রিয়ায় পক্ষপাত করা যাবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নীতি অনুসরণ করতে হবে।
বিচারে বৈষম্য সমাজে অন্যায় ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে। প্রভাবশালীরা অন্যায় করেও পার পেয়ে গেলে অপরাধপ্রবণতা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হলে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি তাদের আস্থা কমে যায়। তাই বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং দরিদ্র মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইসলামের শিক্ষা হলো, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কারও প্রতি পক্ষপাত করা যাবে না। অপরাধী প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও তার অন্যায়কে সমর্থন করা যাবে না। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শাস্তি দেওয়াও অন্যায়। ধনী-গরিব সবার অধিকার রক্ষা এবং অপরাধের ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করাই ইসলামের আদর্শ।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদ