কেউ আপনজনকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন, কেউ বিলাপ বকছেন, কেউ বা উদাস তাকিয়ে আছেন পোড়া রিসোর্টের দিকে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্টের সামনে গিয়ে দেখা যায় জনা পঞ্চাশেক মানুষের জটলা। এরা সবাই এসেছেন নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে। এখান থেকে আবার ছুটছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গের পানে। যেখানেই তারা যাচ্ছেন সেখানেই নেমে আসছে অন্ধকার। অনেকে প্রশ্ন তোলেন কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করা নিয়ে।
রিসোর্টের সামনে যশোরের মনিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স বলেন, ‘শুক্রবার আমার ভাই পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। তারা টুপটুপ রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষ বুকিং করেন। যার কাগজ আমার কাছে আছে। কিন্তু শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার পর থেকেই ভাই ও ভাবির মুঠোফোন বন্ধ পাচ্ছি। হাসপাতাল, মর্গ কোথাও তাদের সন্ধান পাইনি। শেষ পর্যন্ত তাদের খুঁজতে পোড়া রিসোর্টে আসছি। এখান থেকে আবার হাসপাতালে যাব।’ তিনি বলেন, ‘এই রিসোর্ট থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে । অথচ শনিবার বিকেলে প্রশাসন উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেয়।’ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এখানকার লোকজন বলাবলি করছে এখনো রিসোর্টে মরদেহ রয়েছে। এই কারণে রিসোর্টে উদ্ধার অভিযান আবারও শুরু করা দরকার।’
দেওয়ান ফয়সাল এসেছেন স্ত্রীকে খুঁজতে। কখনো হাসপাতাল, কখনো মর্গে আবার কখনো পোড়া রিসোর্টে দৌড়ঝাঁপ করছেন তিনি। তিনি বলেন, তার স্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে দুই বান্ধবীর সঙ্গে টুপটুপ রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। রবিবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তাদের। শনিবারের আগুন লাগার পর থেকে তার স্ত্রী নিখোঁজ। ফয়সাল বলেন, ‘হাসপাতালে লাশের যে অবস্থা দেখা গেল, তাতে কারও পরিচয় শনাক্ত করার উপায় নেই। তাই রিসোর্টে এসে তাকে খুঁজছি। এখান থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। অথচ প্রশাসন অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে।’
অভিযানের বিষয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, ‘নানা মাধ্যমে তথ্য পেয়ে আমরা রিসোর্টটিতে রবিবার বিকেলে আবার তল্লাশি চালিয়েছি। প্রায় ২ দুই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও কিছু পাইনি। তবে সমস্যা হচ্ছে তল্লাশি চালাতে গিয়ে দেখেছি রিসোর্টটি ভেঙে পড়েছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে আমরা দ্রুত পোড়া রিসোর্টস্থল ত্যাগ করি।’