ঢাকার সাভারের বেসরকারি স্বপ্ন বিলাস স্কুলের শিক্ষক নাসরিন জাহান মুক্তা (২৯) ছুটি কাটাতে দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে যান কক্সবাজার। তারা পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। গত শনিবার সকালে দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে বের হওয়ার সময় মুক্তাকেও সঙ্গে যেতে বলেন। তবে ঘুমাবেন বলে রিসোর্টে থেকে যান মুক্তা। বান্ধবীরা বের হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই রিসোর্টটিতে আগুন লাগলে আর বের হতে পারেননি মুক্তা। তিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খানবাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। মুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবরে মঠবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুক্তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা। কারণ, রিসোর্ট থেকে উদ্ধার ১০ মরদেহের মধ্য থেকে মুক্তাকে শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।
মুক্তার ফুফাতো ভাই ইমরান হাজি বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যে মুক্তাকে এখনো শনাক্ত করতে পারেননি তারা। মরদেহ শনাক্তের জন্য তারা থানায় যাচ্ছেন। মুক্তার স্বামীও বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ইমরান হাজি আরও বলেন, এই শোক ও অনিশ্চয়তা সহ্য করার মতো শক্তি তাদের আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ শনাক্ত করা গেলে তা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। তার সন্ধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।