মহাষ্টমীতে মাতৃশক্তি বন্দনা 

শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী তিথিতে কুমারী রূপে দেবী দুর্গার আরাধনা করলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হলো কুমারী পূজা। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই রামকৃষ্ণ মিশনে বাড়তে থাকে ভক্তদের ভিড়।  ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি আর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অষ্টমীর পূজা।

বেলা সকাল পৌনে ১০টায় কুমারীকে আনা হয় মণ্ডপে। ঢাকের বাদ্য, কাঁসার ঘণ্টা, শঙ্খের আওয়াজ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পূজা প্রাঙ্গণ। পূজার আগে কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন লাল শাড়ি, গয়না, পায়ে আলতা, ফুলের মালা এবং অলঙ্কারে সাজানো হয় দেবীরূপে। পদ্মফুল হাতে দেবী পূজার আসনে বসার পর মন্ত্রোপাঠ আর স্তুতিতে তার বন্দনা করা হয়। পূজা শেষে কুমারী দেবীর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন উপস্থিত ভক্তরা।

এবারের পূজায় কুমারী রূপে দেবীর আসনে বসেছিল ইর্যা চক্রবর্তী, শাস্ত্রীয় নাম: উমা। তার বাবার নাম অনিক চক্রবর্তী এবং মায়ের নাম শর্মিলা চক্রবর্তী। ইর্যা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর শিক্ষার্থী। ইর্যা চক্রবর্তীর বয়স ৬ বছর।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, কুমারী পূজা আমাদের দুর্গাপূজার একটি আবশ্যকীয় অঙ্গ। বেলুর মঠে এবং ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠে এবং অন্যান্য আমাদের মঠ-মিশন কেন্দ্রগুলোতে কুমারীকে পূজা করা হয়ে থাকে দেবী দুর্গার জ্ঞানে। সেই মা দুর্গার জ্ঞানে আমরা কুমারীকে পূজা করলাম।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃত অনুযায়ী, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।

শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

আগামীকাল (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। 

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রত্যক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।